সম্প্রতি মেটা কর্তৃপক্ষ বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের ব্যবহারকারীদের জন্য তাদের জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপে যুক্ত করেছে নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি 'মেটা এআই'। এই ভার্চ্যুয়াল সহকারী সেবাটি ব্যবহার করে ব্যবহারকারীরা এখন সহজেই বিভিন্ন সুবিধা উপভোগ করতে পারছেন।
মেসেঞ্জারের সার্চ বক্সে অথবা হোয়াটসঅ্যাপের ডান দিকে থাকা বৃত্তাকার মেটা এআই আইকনে ক্লিক করেই এই পরিষেবা ব্যবহার করা যাচ্ছে।
মেটা এআই: কীভাবে কাজ করে?
মেটা এআই মূলত এললামা ৩.২ (LLama 3.2) নামের লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলের বিভিন্ন সংস্করণে চলে। এটি ব্যবহারকারীদের আদান-প্রদান করা বার্তা এবং ছবি বিশ্লেষণ করে তাদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর সরবরাহ করে। কেবল প্রশ্নের উত্তর দেওয়াই নয়, এই এআই ব্যবহার করে কৃত্রিম ছবি তৈরি, বিদ্যমান ছবি সম্পাদনা এবং কনটেন্টের (আধেয়) জন্য ক্যাপশনও লিখে নেওয়া সম্ভব। মেটা এআই মেশিন লার্নিং প্রযুক্তির সাহায্যে ব্যবহারকারীদের চাহিদা, পছন্দ এবং ব্যবহারের ধরন অনুযায়ী উত্তর দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন কাজ সম্পাদন করে থাকে।
মেটা এআই-এর সুবিধাগুলো কী কী?
মেটা এআইয়ের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা অনেক ধরনের কাজ করতে পারেন:
তথ্য অনুসন্ধান ও প্রশ্নের উত্তর: বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর জানা এবং নির্দিষ্ট তথ্য অনুসন্ধান করা সহজ হয়ে উঠেছে।
বানান ও ব্যাকরণ সংশোধন: মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপে অন্যদের বার্তা পাঠানোর আগে এই এআই ব্যবহার করে বানান সংশোধন এবং ব্যাকরণগত ত্রুটি যাচাই করা যায়।
সহজ ব্যবহার: মেটা এআই সরাসরি মেটার অ্যাপগুলোর ইন্টারফেসে যুক্ত থাকায় ব্যবহারকারীদের আলাদা কোনো অ্যাপ ইনস্টল করতে হয় না।
ভয়েস কমান্ড: বার্তার পাশাপাশি ভয়েস কমান্ডের মাধ্যমেও মেটা এআই ব্যবহার করা যায়।
পৃথক চ্যাট উইন্ডো: একবার মেটা এআই ব্যবহার করলে হোয়াটসঅ্যাপ বা মেসেঞ্জারে এর জন্য একটি আলাদা চ্যাট উইন্ডো তৈরি হয়ে যায়। এর ফলে ব্যবহারকারীরা সহজেই নতুন এই উইন্ডোয় প্রবেশ করে পরবর্তী সময়ে এআই ব্যবহার করতে পারেন।
মেটা এআই প্রযুক্তি যুক্ত হওয়ার ফলে মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপের অভিজ্ঞতা আরও সমৃদ্ধ হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: ফেসবুক, টেক রাডার