এখন সময় ডেস্ক • প্রকাশিত: ১২ নভেম্বার ২০২৫, ০৭:২১ পিএম • অনলাইন সংস্করণ

মেটার আয়ের বড় অংশ আসে প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন থেকে

মেটার আয়ের বড় অংশ আসে প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন থেকে

মেটা—যার মালিকানায় ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপ রয়েছে—গত বছরের শেষের দিকে অভ্যন্তরীণভাবে অনুমান করেছিল যে তাদের বার্ষিক মোট আয়ের প্রায় ১০ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার, আসে প্রতারণামূলক ও নিষিদ্ধ পণ্যের বিজ্ঞাপন থেকে। রয়টার্সে ফাঁস হওয়া অভ্যন্তরীণ নথি বলছে, অন্তত তিন বছর ধরে মেটা বিপুল সংখ্যক ভুয়া বিজ্ঞাপন শনাক্ত ও প্রতিহত করতে ব্যর্থ হয়েছে। এর ফলে ব্যবহারকারীরা প্রতারণামূলক ই-কমার্স সাইট, অবৈধ অনলাইন ক্যাসিনো, ভুয়া বিনিয়োগ স্কিম এবং নিষিদ্ধ ওষুধের বিজ্ঞাপনের শিকার হয়েছেন।

২০২৪ সালের ডিসেম্বরের এক নথি অনুযায়ী, মেটা প্রতিদিন প্রায় ১৫ বিলিয়ন “উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ” বিজ্ঞাপন ব্যবহারকারীদের সামনে তুলে ধরে, যার মাধ্যমে কোম্পানিটি বছরে প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলার আয় করে। যদিও প্রতারণার আশঙ্কায় থাকা বিজ্ঞাপনদাতারা মেটার স্বয়ংক্রিয় সতর্কতায় ধরা পড়ে, তাদের শুধুমাত্র তখনই ব্লক করা হয় যখন মেটা নিশ্চিত হয় যে তারা ৯৫ শতাংশ সম্ভাবনায় প্রতারণা করছে। সন্দেহ থাকলে বিজ্ঞাপনদাতাদের বেশি খরচ দিতে হয়, যাতে তাদের বিজ্ঞাপন প্রদর্শন ধীরগতিতে হয়।

মেটার অভ্যন্তরীণ বিশ্লেষণ জানায়, যুক্তরাষ্ট্রে অনলাইন প্রতারণার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কোনো না কোনোভাবে মেটার প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত। ব্যবহারকারীদের জন্য কোম্পানির নীতি তুলনামূলক কঠোর হলেও, বিজ্ঞাপনদাতাদের ক্ষেত্রে তা অনেক বেশি নমনীয়। ছোট বিজ্ঞাপনদাতাদের আটবার নিয়ম ভাঙার পর নিষিদ্ধ করা হয়, অথচ বড় ও উচ্চমূল্যের বিজ্ঞাপনদাতারা ৫০০ বার লঙ্ঘন করেও বিজ্ঞাপন দিতে থাকে।

একই নথিতে বলা হয়, মেটা বৈধ বিজ্ঞাপনকে অন্তর্ভুক্ত করে প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপনের আয় কম দেখানোর চেষ্টা করেছে। কোম্পানির মুখপাত্র অ্যান্ডি স্টোন জানান, গত ১৮ মাসে তারা বিশ্বব্যাপী ব্যবহারকারীদের স্ক্যাম রিপোর্ট ৫৮ শতাংশ কমাতে সক্ষম হয়েছেন এবং ২০২৫ সালে এখন পর্যন্ত ১৩৪ মিলিয়নের বেশি ভুয়া বিজ্ঞাপন মুছে ফেলা হয়েছে।

প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন রোধে মেটা নতুন কৌশলও চালু করেছে। এর মধ্যে একটি হলো “পেনাল্টি বিড” ব্যবস্থা—যেখানে সন্দেহভাজন প্রতারকরা বিজ্ঞাপন প্রদানের সময় বেশি খরচ করতে বাধ্য হয়। এতে তাদের লাভ কমে যায়, তবে মেটা বেশি অর্থ আয় করে বলে মোট আয়ের ক্ষতি হয় না।

২০২৪ সালে মেটার মোট আয়ের ১০.১ শতাংশ এসেছে প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন থেকে। কোম্পানি ২০২৫ সালের শেষে তা ৭.৩ শতাংশে নামানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, এবং ২০২৬ ও ২০২৭ সালে যথাক্রমে ৬ ও ৫.৮ শতাংশে নামানোর পরিকল্পনা করছে।

নথি আরও জানায়, ২০২২ সালে মেটা ছদ্মবেশী সামরিক সদস্য ও সেলিব্রিটিদের নামে চালানো শতাধিক অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করেছিল, যারা ব্যবহারকারীদের প্রতারণায় জড়িত ছিল। তবু কোম্পানি তখন এই বিজ্ঞাপনগুলোকে “কম গুরুতর” হিসেবে বিবেচনা করে স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণে যথেষ্ট বিনিয়োগ করেনি।

২০২৩ সালে প্রায় এক লাখ বৈধ স্ক্যাম রিপোর্টের মধ্যে ৯৬ শতাংশ উপেক্ষা বা ভুলভাবে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল। পরে মেটা নীতিমালা পরিবর্তন করে সর্বোচ্চ ৭৫ শতাংশ রিপোর্ট বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কানাডার এক সেনা নিয়োগকর্মীর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়ে ভুয়া ক্রিপ্টো প্রতারণায় ব্যবহারের ঘটনাও এই নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে শতাধিক ব্যবহারকারীর অভিযোগ উপেক্ষা করা হয়েছিল।

সবশেষে মেটার অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন স্বীকার করছে যে ব্যবহারকারীদের অনলাইন প্রতারণা থেকে রক্ষায় কোম্পানি পদক্ষেপ নিচ্ছে, তবে অর্থনৈতিক স্বার্থের কারণে এই পদক্ষেপগুলো অনেক সময় বিলম্বিত বা সীমিত হয়। তা সত্ত্বেও পেনাল্টি বিডসহ অন্যান্য পদক্ষেপের মাধ্যমে মেটা ধীরে ধীরে স্ক্যাম বিজ্ঞাপনের সংখ্যা কমানোর চেষ্টা করছে।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স