মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় প্রভাব বিস্তারকারী সংগঠন মুসলিম ব্রাদারহুডের তিনটি আঞ্চলিক শাখাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ও ট্রেজারি বিভাগ যৌথভাবে লেবানন, জর্ডান ও মিসরের ব্রাদারহুড শাখার ওপর এই কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেয়। এই সিদ্ধান্তের ফলে গোষ্ঠীগুলোর সাথে সব ধরণের আর্থিক লেনদেন নিষিদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি তাদের আন্তর্জাতিক সম্পদ জব্দ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
মার্কিন প্রশাসনের এই পদক্ষেপের মধ্যে লেবাননের শাখাকে স্টেট ডিপার্টমেন্টের পক্ষ থেকে ‘ফরেন টেররিস্ট অর্গানাইজেশন’ বা এফটিও হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা আইনি ব্যবস্থার মধ্যে সবচেয়ে কঠোর পর্যায়। অন্যদিকে জর্ডান ও মিসরের শাখাকে ট্রেজারি বিভাগ ‘গ্লোবাল টেররিস্ট’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, এই শাখাগুলো ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসকে সরাসরি সহায়তা করার পাশাপাশি ওই অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা তৈরিতে ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলার পর লেবানন শাখা থেকে রকেট হামলা চালানো এবং জর্ডান শাখার পক্ষ থেকে হামাসকে মদদ দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, মুসলিম ব্রাদারহুডের সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতা রুখতে এটি একটি চলমান প্রক্রিয়ার শুরু মাত্র। যুক্তরাষ্ট্র তার সমস্ত শক্তি ব্যবহার করে এই গোষ্ঠীগুলোর অর্থায়নের উৎস বন্ধ করে দেবে। এর আগে গত বছর ট্রাম্পের এক নির্বাহী আদেশের ভিত্তিতে ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিওকে এই গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। যদিও ব্রাদারহুড নেতারা শুরু থেকেই দাবি করে আসছেন যে তারা সহিংসতায় বিশ্বাস করেন না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় প্রভাব পড়বে। মিসর ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলো এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানালেও কাতার ও তুরস্কের মতো মার্কিন মিত্রদের সাথে ওয়াশিংটনের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হতে পারে, কারণ ওই দেশগুলোতে ব্রাদারহুডের রাজনৈতিক উপস্থিতি ও সহনশীলতা বজায় রয়েছে। একই সাথে এই নিষেধাজ্ঞার ফলে ভবিষ্যতে ব্রাদারহুড সদস্যদের পশ্চিমা দেশগুলোতে ভিসা বা রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়ার পথ অনেকটা কঠিন হয়ে যাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা ও টেক্সাস অঙ্গরাজ্য আগেই এই গোষ্ঠীকে নিষিদ্ধ করেছিল। এবার কেন্দ্রীয় সরকারের এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদের অসম্পূর্ণ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করলেন। এই পদক্ষেপ কেবল নিরাপত্তার খাতিরে নয়, বরং ট্রাম্পের কট্টর সমর্থকদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রতিফলন হিসেবেও দেখা হচ্ছে।