ওয়াশিংটন: যুক্তরাষ্ট্রে ১০০ কোটি মানুষকে দেশ থেকে বের করে দেওয়ার মাধ্যমে দেশটিকে স্বর্গরাজ্যে পরিণত করার এক বিতর্কিত প্রস্তাব দিয়ে তীব্র নিন্দার মুখে পড়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। সম্প্রতি মার্কিন অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ বা ডিএইচএস তাদের অফিশিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে একটি ছবি পোস্ট করে এই আলোচনার জন্ম দেয়। ওই ছবিতে দেখা যায়, একটি মনোরম সমুদ্রসৈকতে বিলাসবহুল গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে এবং নীল আকাশে লেখা রয়েছে ১০০ মিলিয়ন বা ১০০ কোটি মানুষের নির্বাসনের পর আমেরিকা। ছবিটির ক্যাপশনে সংস্থাটি লিখেছে, তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো দ্বারা আক্রান্ত না হওয়া একটি দেশের শান্তি।
এই ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। সমালোচকরা বলছেন, মার্কিন আদমশুমারি ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে বিদেশজাত মানুষের সংখ্যা মাত্র ৪ কোটি ৭০ লাখের মতো। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের ১০০ কোটি মানুষকে বের করে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে হলে দেশটিতে জন্ম নেওয়া ৫৩ কোটি বৈধ নাগরিককেও নির্বাসিত করতে হবে। পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০২০ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে অশ্বেতাঙ্গ মানুষের সংখ্যা প্রায় ১০০ কোটির কাছাকাছি। ফলে এই বিশাল সংখ্যক মানুষকে টার্গেট করার বিষয়টি বর্ণবাদী উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিতর্ক আরও বেড়েছে যখন জানা যায় যে ডিএইচএস যে শিল্পকর্মটি ব্যবহার করেছে, সেটি জাপানি শিল্পী হিরোশি নাগাইয়ের কাজ থেকে অনুমতি ছাড়াই নেওয়া হয়েছে। এছাড়া সংস্থাটি ইদানীং রি-মাইগ্রেশন বা পুনঃপ্রবাসন এর মতো শব্দ ব্যবহার করছে, যা ইউরোপের কট্টর ডানপন্থীরা অশ্বেতাঙ্গদের তাড়ানোর ক্ষেত্রে ব্যবহার করে থাকে। এমনকি তাদের কিছু পোস্টে নব্য-নাৎসি অ্যাকাউন্ট থেকে নেওয়া গ্রাফিক্স ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির কট্টর সমর্থক লরা লুমার সম্প্রতি ফ্লোরিডায় অভিবাসীদের জন্য তৈরি ইন্টার্নমেন্ট ক্যাম্প নিয়ে মন্তব্য করে জানিয়েছিলেন, সেখানে থাকা কুমিরদের জন্য ৬৫ কোটি মানুষের খাবারের ব্যবস্থা হবে। উল্লেখ্য যে, এই ৬৫ কোটি সংখ্যাটি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত মোট হিস্পানিক জনগোষ্ঠীর সংখ্যার সমান। যদিও এত বিপুল সংখ্যক মানুষকে অল্প সময়ে বের করে দেওয়া প্রায় অসম্ভব, তবুও সরকারের এমন প্রচারণাকে জাতিগত নিধনের উসকানি হিসেবে দেখছেন মানবাধিকার কর্মীরা।
২০২৬ সালকে আমেরিকান সুপ্রিমেসি বা মার্কিন শ্রেষ্ঠত্বের বছর হিসেবে ঘোষণা দিয়ে প্রশাসন এখন প্রতি মাসে শত শত নাগরিকের নাগরিকত্ব বাতিলের পরিকল্পনা করছে। এই তালিকায় বর্তমান সরকারের সমালোচক এবং মুসলিম জনপ্রতিনিধিদের নামও আসার সম্ভাবনা রয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপগুলো কেবল অবৈধ অভিবাসন বন্ধের জন্য নয়, বরং আমেরিকাকে একটি শ্বেতাঙ্গ প্রধান রাষ্ট্রে রূপান্তরের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ।