পুয়ের্তো রিকোর সান হুয়ানে অনুষ্ঠিত সোমোস সম্মেলনের শেষ দিনে নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকল নতুন মেয়র-নির্বাচিত জোহরান মামদানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব—নগরীর বাসযাত্রা বিনামূল্যে করার উদ্যোগে—সম্মতি জানাননি।
সংবাদ সম্মেলনে হোকল বলেন, “আমি এমন কোনো পরিকল্পনা দিতে পারি না যা এমন এক ব্যবস্থার আয় কমিয়ে দেবে, যা মূলত বাস ও সাবওয়ে ভাড়ার ওপর নির্ভরশীল। তবে যারা সবচেয়ে বেশি সহায়তা প্রাপ্য, তাদের জন্য পরিবহনব্যয় কমানোর পথ আমরা নিশ্চয়ই খুঁজে পেতে পারি।” তিনি উল্লেখ করেন, স্টেট ইতোমধ্যে এমটিএর পরবর্তী মূলধন পরিকল্পনায় কয়েক বিলিয়ন ডলার দিয়েছে এবং সাবওয়ে বগিতে ক্যামেরা বসানোর মতো প্রকল্পেও বিনিয়োগ করেছে।
হোকল আরও জানান, তিনি সারা স্টেটজুড়ে সার্বজনীন শিশু যত্ন কর্মসূচি সম্প্রসারণের দিকেও নজর দিচ্ছেন, যদিও এর মোট ব্যয় প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলার। “শিশু যত্ন আমি আগে থেকেই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলাম,” বলেন তিনি। “তবে স্টেটজুড়ে তা চালু করতে গেলে এটি আমার পুরো রিজার্ভ ফান্ডের সমান খরচ হবে।” তিনি প্রস্তাব দেন, প্রাথমিকভাবে নির্দিষ্ট বয়সভিত্তিক এবং ভৌগোলিকভাবে অবহেলিত এলাকাগুলোতে ধাপে ধাপে কর্মসূচিটি চালু করা যেতে পারে। এ বিষয়ে ২০২৬ সালের জানুয়ারির মধ্যে সমাধান আনার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
অন্যদিকে, মেয়র-নির্বাচিত মামদানী তার গণতান্ত্রিক সমাজতান্ত্রিক পরিচয় নিয়ে ব্যবসায়ী মহলসহ কিছু নিউইয়র্কবাসীর উদ্বেগের জবাবে বলেন, “আমার পুরো প্রচারণাই ছিল কর্মজীবী নিউইয়র্কবাসীর সংগ্রামগুলোকে রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে ফেরানো এবং সিটি হলকে এমন এক জায়গায় পরিণত করা যেখানে সেই সংগ্রামগুলো শুধু স্বীকৃতিই পায় না, বাস্তব সমাধানও খুঁজে পায়।”
স্টেট অ্যাসেম্বলি স্পিকার কার্ল হেস্টি—যিনি মামদানীর মতো ডেমোক্র্যাট—ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন মেয়র-নির্বাচিতের কিছু প্রস্তাব, যেমন কর বৃদ্ধির বিষয়ে। তিনি বলেন, “এখন নভেম্বর চলছে, বাজেট নিয়ে ভাবার সময় আছে। তবে আমাদের মধ্যে সহযোগিতার মনোভাব রয়েছে। আমরা চাই জোহরান সফল হোক।”
এদিকে নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলে নেতৃত্ব পরিবর্তনের প্রতিযোগিতাও শুরু হয়েছে, কারণ বর্তমান স্পিকার অ্যাড্রিয়েন অ্যাডামসের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। নতুন নেতৃত্বে একাধিক ডেমোক্র্যাট সদস্য অংশ নিচ্ছেন।
ম্যানহাটনের কাউন্সিলওম্যান জুলি মেনিন বলেন, “সার্বজনীন শিশু যত্ন ও সাশ্রয়ী আবাসন নির্মাণ নিয়ে অনেক মিল আছে আমাদের মধ্যে। কাউন্সিলের সক্রিয় ভূমিকা নিয়ে আমি আশাবাদী।”
ব্রুকলিনের ক্রিস্টাল হাডসন জানান, “আমার রাজনৈতিক জীবনে যে বিস্তৃত জোট গড়ে তুলেছি, এবারও তেমনই সহযোগিতা গড়ে তুলতে চাই।”
ম্যানহাটনের কাউন্সিলম্যান ক্রিস্টোফার মার্টে বলেন, “আমি প্রায় প্রতিটি কাউন্সিল সদস্যের সঙ্গে তাদের এলাকায় সাক্ষাৎ করেছি, যাতে তাদের চাহিদা ও দৃষ্টিভঙ্গি বুঝে প্রকৃত পরিবর্তন আনতে পারি।”
অন্যদিকে ব্রঙ্কসের কাউন্সিলওম্যান আমান্ডা ফারিয়াস বলেন, “আমি বহিঃনগর অঞ্চল থেকে এসেছি, আর এখানকার কর্মজীবী পরিবারগুলোর প্রত্যাশা নিয়েই আমি পুরো শহরের নেতৃত্ব দিতে চাই।”
এভাবে, নিউইয়র্কের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন নেতৃত্বের সূচনা যেমন এগিয়ে আসছে, তেমনি গভর্নর ও মেয়র-নির্বাচিতের নীতি-দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্যও স্টেট ও শহর প্রশাসনের ভবিষ্যৎ সম্পর্ককে নতুনভাবে গড়ে দিতে পারে।