নিউইয়র্ক সিটির নবনির্বাচিত মেয়র মামদানীর নীতিগত অবস্থান নিয়ে কিছু মহলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে শহর থেকে কোম্পানি ও মূলধন বেরিয়ে যেতে পারে। তবে শহরের শীর্ষস্থানীয় দুই রিয়েল এস্টেট নির্বাহী বলছেন, বাস্তবে এমন কোনো সংকেত নেই। বরং অফিস লিজিং ও নতুন ভবন নির্মাণে রেকর্ড বিনিয়োগ হচ্ছে, যা মামদানীর নির্বাচনের পরও অব্যাহত রয়েছে।
আরএক্সআর-এর প্রধান নির্বাহী স্কট রেকলার সিএনবিসির এক সম্মেলনে বলেন, “নিউইয়র্ক আবার ফিরে এসেছে। এখানে যারা কাজ করে ও বসবাস করে তারা শহরের শক্তি অনুভব করছে।” তিনি জানান, বর্তমানে একের পর এক কোম্পানির প্রধান নির্বাহী নিউইয়র্কে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। ২০২৮ থেকে ২০৩২ সাল পর্যন্ত অফিস লিজিং চুক্তি ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হচ্ছে।
রুডিন ম্যানেজমেন্টের সহ-চেয়ারম্যান বিল রুডিন জানান, এ বছর শেষে শহরে ৪ কোটি বর্গফুটের বেশি অফিস লিজ স্বাক্ষরিত হবে। তিনি বলেন, “কোনো কোম্পানি তাদের পরিকল্পনা বন্ধ করেনি, বরং সম্প্রসারণ করছে।” উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন সিটাডেল সিকিউরিটিজের প্রধান কেন গ্রিফিনকে, যিনি ভোরনাডো রিয়েলটি ও রুডিনের সঙ্গে মিলে পার্ক অ্যাভিনিউতে দুই মিলিয়ন বর্গফুটের নতুন ভবন নির্মাণে অংশ নিচ্ছেন।
রেকলার জানান, সম্প্রতি একটি আইন সংস্থা ২০২৯ সালে ৩ লাখ বর্গফুটের লিজ চুক্তি করেছে এবং নির্বাচনের পর আরও ২ লাখ বর্গফুট বাড়ানোর অনুরোধ করেছে। জেপি মরগানের নতুন ভবনেও অতিরিক্ত ৫ হাজার কর্মীর জন্য আসন প্রয়োজন হচ্ছে। আরএক্সআর ইতিমধ্যেই ২.৮ মিলিয়ন বর্গফুটের একটি প্রকল্পে অগ্রসর হচ্ছে, যার জন্য ৭ বিলিয়ন ডলারের অর্থায়ন নিশ্চিত হয়েছে।
তিনি বলেন, মামদানীর নির্বাচনের পর মার্কেটে জরুরি ভিত্তিতে চুক্তি সম্পন্ন হচ্ছে। সাধারণত এক বছর সময় নেয়া লিজ চুক্তি এখন মাত্র কয়েক সপ্তাহে শেষ হচ্ছে। রুডিনও জানান, উচ্চমানের অফিস স্পেসের চাহিদা এখনও প্রবল।
তরুণ পেশাজীবীদের আকর্ষণই নিউইয়র্কের রিয়েল এস্টেট মার্কেটকে শক্তিশালী করছে। রেকলার জানান, শহরের বহুতল আবাসন মার্কেটে শূন্যতার হার মাত্র ১.৫ শতাংশ।
তবে মামদানীকে নিয়ে তাদের কিছু সংশয়ও রয়েছে। রেকলার বলেন, “তিনি মূলধনের শহরের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নন।” বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ‘রেন্ট ফ্রিজ’ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে, যা বহুতল আবাসন বিনিয়োগে প্রভাব ফেলতে পারে। মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপে ভ্রমণের সময়ও তিনি একই ধরনের প্রশ্ন শুনেছেন।
তবুও তারা মনে করেন নিউইয়র্ক অতীতে নানা সংকট মোকাবিলা করেছে এবং এবারও সফল হবে। ব্লুমবার্গের সময়ে শহরের বাজেট ছিল ৬০ বিলিয়ন ডলার, যা এখন বেড়ে ১১৬ বিলিয়ন হয়েছে। রুডিন আশা প্রকাশ করেন, মামদানী বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিচালনা করবেন।
তিনি বলেন, মামদানী শুরুতে আবাসন পুরোপুরি সরকারি নিয়ন্ত্রণে আনার কথা বললেও এখন বেসরকারি খাতের সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। রুডিন মনে করেন, আবাসন সংকট সমাধানে শ্রমিক সংগঠন, গভর্নর, সিটি কাউন্সিল ও মেয়রের একসঙ্গে কাজ করা জরুরি।
রেকলার উল্লেখ করেন, কর বাড়ানোর ক্ষমতা মূলত গভর্নরের হাতে এবং বর্তমান গভর্নর ক্যাথি হোকুল ইতিমধ্যেই বলেছেন আয়কর বাড়ানো হবে না। আসন্ন গভর্নর নির্বাচনে মামদানীর নীতি বড় ইস্যু হতে পারে।
রেকলার জানান, মামদানীর সঙ্গে তার ব্যক্তিগত বৈঠকে তিনি প্রস্তুত ও বাস্তববাদী মনোভাব দেখিয়েছেন। তিনি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কাজ করার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছেন, যা পূর্ববর্তী মেয়র বিল দে ব্লাসিওর সঙ্গে অভিজ্ঞতার তুলনায় ভিন্ন।
সব মিলিয়ে রিয়েল এস্টেট নেতাদের মতে, নিউইয়র্কে বিনিয়োগ ও সম্প্রসারণ অব্যাহত রয়েছে। মামদানীর নীতি নিয়ে কিছু আন্তর্জাতিক উদ্বেগ থাকলেও শহরের ভেতরে ব্যবসায়িক আস্থা অটুট, এবং তরুণ পেশাজীবীদের আকর্ষণই নিউইয়র্ককে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
তথ্যসূত্র: সিএনবিসি