এখন সময় রিপোর্ট • প্রকাশিত: ০৫ নভেম্বার ২০২৫, ০৭:৫১ পিএম • অনলাইন সংস্করণ

মামদানিই নিউইয়র্কের মেয়র

মামদানিই নিউইয়র্কের মেয়র

মামদানিই নিউইয়র্কের মেয়র। ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট রাজনীতিক জোহরান মামদানি নিউইয়র্ক সিটি মেয়র নির্বাচনে জয়ী হয়ে ১১১তম মেয়র হতে যাচ্ছেন। শহরের ইতিহাসে তিনি প্রথম মুসলিম, প্রথম দক্ষিণ এশীয় এবং শতবর্ষের মধ্যে সবচেয়ে তরুণ মেয়র। তিনি স্বাধীন প্রার্থী সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুয়োমো এবং রিপাবলিকান কার্টিস স্লিওয়াকে পরাজিত করেছেন.

প্রকল্পিত ফল অনুযায়ী মামদানি প্রায় ৫০ দশমিক চার শতাংশ ভোট পেয়েছেন। কুয়োমো পেয়েছেন প্রায় ৪১ দশমিক তিন শতাংশ। স্লিওয়া পেয়েছেন প্রায় ৭ দশমিক পাঁচ শতাংশ. শপথগ্রহণ হবে ১ জানুয়ারি ২০২৬। এবারের নির্বাচনে অংশগ্রহণ ছিল উঁচু মাত্রায়, দুই মিলিয়নের বেশি ভোট পড়েছে।

উগান্ডায় জন্ম নেওয়া এবং ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়া মামদানি কুইন্সের অ্যাস্টোরিয়া কেন্দ্র করে রাজনীতি করেছেন। তিনি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি বিনামূল্যে বা সাশ্রয়ী গণপরিবহন এবং উচ্চ আয়ের ওপর বাড়তি করের অঙ্গীকার করেছেন। আবাসন সংকট শিক্ষা শিশু যত্ন এবং জনসেবায় ব্যয়ের প্রসার তার প্রচারের কেন্দ্রে ছিল.ল।

কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাঠে ট্রাম্পসহ জাতীয় পর্যায়ের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি কুয়োমোকে প্রকাশ্য সমর্থন দিলেও ফল বদলায়নি। বিপরীতে বার্নি স্যান্ডার্স এবং আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও কোরতেজসহ প্রগতিশীল নেতৃত্ব মামদানির পক্ষে অবস্থান নেন। নির্বাচনী প্রচারে ইসলামোফোবিক হামলা এবং ফিলিস্তিন প্রশ্নে অবস্থান নিয়ে সমালোচনার মুখেও তিনি পরিবর্তনের ম্যান্ডেট দাবি করেন।

তবে তার অর্থনৈতিক কর্মসূচির বড় অংশ অ্যালবানির অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল, নতুন কর আরোপ এবং বিনিয়োগ পরিকল্পনা নিয়ে অঙ্গরাজ্য সরকারের সঙ্গে টানাপোড়েনের আশঙ্কা রয়েছে. বাজেট বাস্তবায়নে শহর রাজ্য এবং ফেডারেল স্তরে সমন্বয় জরুরি হবে।

রিপাবলিকান প্রার্থী স্লিওয়া পরাজয় মেনে নিয়েছেন। কুয়োমোর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এবং চূড়ান্ত গণনার আপডেট আসতে থাকলেও সামগ্রিক চিত্রে মামদানির স্পষ্ট অগ্রাধিকার নিশ্চিত হয়েছে। উচ্চ অংশগ্রহণ তরুণ ভোটারদের সক্রিয়তা এবং ভাড়াটিয়া শ্রেণির উদ্বেগ এই বিজয়ের পেছনে কাজ করেছে।

এখন শহরের প্রত্যাশা মূল্যস্ফীতি থামানো আবাসনের জট খুলে দেওয়া গণপরিবহনে স্বস্তি ফেরানো এবং জননিরাপত্তায় ব্যালান্স খুঁজে পাওয়া। বহুসংস্কৃতির নিউইয়র্কে এই বিজয় প্রগতিশীল নীতির পরীক্ষা ক্ষেত্রও বটে। নতুন প্রশাসনের সামনে প্রথম দিন থেকেই ফল দেখানোর চাপ থাকবে।