ভেনেজুয়েলার আটক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে নিউ ইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, হেলিকপ্টার ও জাহাজে করে তাদের যুক্তরাষ্ট্রে আনা হচ্ছে এবং সেখানে ইতিমধ্যে তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। মাদুরোর বিরুদ্ধে নিজ দেশের নাগরিকদের পাশাপাশি অসংখ্য আমেরিকানকে হত্যার অভিযোগ তুলেছেন ট্রাম্প।
অভিযানের বর্ণনা দিতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, মাদুরো যে স্থানে অবস্থান করছিলেন সেটি কোনো সাধারণ বাড়ি নয় বরং ইস্পাতে ঘেরা একটি দুর্গের মতো ছিল। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে অভিযান শুরু করতে চার দিন দেরি হলেও সুযোগ বুঝে অত্যন্ত ক্ষিপ্রতার সাথে মার্কিন বাহিনী এই বিশেষ অপারেশন সম্পন্ন করে। আক্ষরিক অর্থেই একটি টেলিভিশন শোর মতো পুরো দৃশ্যটি পর্যবেক্ষণ করেছেন বলে জানান ট্রাম্প। তার মতে, বিশ্বের আর কোনো দেশের পক্ষে এমন নিখুঁত ও শক্তিশালী কৌশলগত অভিযান চালানো সম্ভব নয়।
ট্রাম্প আরও প্রকাশ করেন যে, অভিযানের এক সপ্তাহ আগেই তিনি মাদুরোকে পদত্যাগ ও আত্মসমর্পণের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব প্রসঙ্গে তিনি জানান, সেখানে গত নির্বাচন ছিল একটি কলঙ্কজনক অধ্যায় এবং বর্তমানে নরওয়েতে অবস্থানরত বিরোধী নেত্রী মারিয়া করিনা মাচাদোকে সমর্থনের বিষয়টি এখন বিবেচনায় রয়েছে। এছাড়া ভেনেজুয়েলার তেল শিল্পের ওপর ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণের ইঙ্গিতও দেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রে মাদক চোরাচালানের মাধ্যমে লাখো মানুষের মৃত্যুর জন্য মাদুরো প্রশাসনকে দায়ী করে ট্রাম্প বলেন, আমেরিকানদের ধমক দেওয়ার দিন শেষ হয়ে গেছে। এই অভিযানে মার্কিন পক্ষের কয়েকজন আহত হলেও কেউ প্রাণ হারাননি বলে তিনি নিশ্চিত করেন। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে বিশ্বকে একটি কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে মনে করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।