ভেনেজুয়েলার বিশাল খনিজ তেলের ভাণ্ডার নিয়ন্ত্রণে নিতে এবং দেশটির ভূখণ্ড থেকে চিরশত্রু রাষ্ট্রগুলোর প্রভাব মুছতে নজিরবিহীন শর্ত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবিসি নিউজের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রোদ্রিগেজের সরকারকে সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, তেল উত্তোলনের অনুমতি পেতে হলে আগে চীন, রাশিয়া, ইরান ও কিউবার সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে। একইসঙ্গে ওই দেশগুলোকে ভেনেজুয়েলার মাটি থেকে বের করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
মার্কিন প্রশাসনের লক্ষ্য হলো ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদনে যুক্তরাষ্ট্রের একচেটিয়া অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করা। ট্রাম্পের প্রস্তাব অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলাকে তাদের উৎপাদিত ভারী ক্রুড অয়েল বিক্রির ক্ষেত্রে আমেরিকাকেই অগ্রাধিকার দিতে হবে। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ অভিযানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো আটক হওয়ার পর দেশটিতে যে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তাকে কাজে লাগিয়ে ট্রাম্প এখন দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশটির নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নেওয়ার দাবি করছেন। ট্রাম্পের পরিকল্পনায় ভেনেজুয়েলার ৩ থেকে ৫ কোটি ব্যারেল তেল যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, যা বাজারদরে বিক্রি করা হবে।
ব্লুমবার্গের তথ্যানুযায়ী, মার্কিন অবরোধের কারণে উৎপাদিত তেল মজুত করার জায়গা না থাকায় গত ডিসেম্বর থেকেই ভেনেজুয়েলা তাদের তেল কূপগুলো বন্ধ করতে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে দেশটি কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দেউলিয়া হয়ে যেতে পারে। এমন সংকটের মুখে ট্রাম্প জানিয়েছেন, তেল বিক্রির অর্থ তিনি নিজেই নিয়ন্ত্রণ করবেন এবং তা ভেনেজুয়েলার সাধারণ মানুষ ও মার্কিন স্বার্থে ব্যয় করা হবে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক গোপন ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন, তেলের মজুত পূর্ণ থাকায় ভেনেজুয়েলাকে চাপে ফেলা এখন অনেক সহজ হবে।
সিনেট আর্মড সার্ভিসেস কমিটির চেয়ারম্যান রজার উইকার স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, ভেনেজুয়েলায় কোনো সেনা মোতায়েন না করেই তেলের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা আমেরিকার মূল লক্ষ্য। মার্কিন রণকৌশলের অংশ হিসেবে সমুদ্রপথে জাহাজ ও ট্যাঙ্কারের দখল নেওয়া হবে যাতে কিউবার মতো দেশগুলোতে কোনো তেল পৌঁছাতে না পারে। তেলের বাজার উন্মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত নতুন কোনো ট্যাঙ্কার ভরা সম্ভব হবে না কারণ ভেনেজুয়েলার সব ভাণ্ডার এখন উপচে পড়ছে। এই ভূ-রাজনৈতিক চাপ রোদ্রিগেজ সরকারের টিকে থাকার লড়াইকে আরও কঠিন করে তুলছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।