এখন সময় ডেস্ক • প্রকাশিত: ০৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০৫:২১ এ এম • অনলাইন সংস্করণ

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন কমান্ডো অভিযান: সস্ত্রীক অপহৃত প্রেসিডেন্ট মাদুরো

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন কমান্ডো অভিযান: সস্ত্রীক অপহৃত প্রেসিডেন্ট মাদুরো

একটি স্বাধীন দেশের অভ্যন্তরে হামলা চালিয়ে দেশটির নির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে অন্য একটি দেশ তুলে নিয়ে যাওয়ার মতো নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে দক্ষিণ আমেরিকায়। ভেনেজুয়েলার তেলসমৃদ্ধ ভূখণ্ডে সামরিক অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রীকে আটক করে নিয়ে গেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই এই অভিযানের খবর নিশ্চিত করেছেন।

অভিযানের বিস্তারিত ও ডেল্টা ফোর্সের ভূমিকা

শনিবার (৩ জানুয়ারি) ভোরে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে এই বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানো হয়। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, আমেরিকার সামরিক বাহিনীর বিশেষ ইউনিট 'ডেল্টা ফোর্স' এই অভিযানে সরাসরি অংশ নেয়।

অভিযানের পর কারাকাসের দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ভয়াবহ আগুন জ্বলতে দেখা গেছে:

শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত সামরিক বিমানঘাঁটি।

প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বাসভবন।

বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, মাদুরোকে বর্তমানে কোথায় রাখা হয়েছে তা এখনো গোপন রাখা হয়েছে। তবে ট্রাম্প জানিয়েছেন, তাদের ভেনেজুয়েলার বাইরে কোনো এক স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

কেন এই আক্রমণ?

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিযোগ, নিকোলাস মাদুরো তার দেশকে ব্যবহার করে আমেরিকায় মাদক পাচার করছেন। এছাড়া ২০২০ সালে মাদুরোর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও মাদক পাচারের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে মামলা করা হয়েছিল এবং তাকে গ্রেপ্তারের জন্য ৫ কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, এখন মার্কিন আদালতেই মাদুরোর বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

ভেনেজুয়েলা ও আমেরিকার দীর্ঘ সংঘাত

ভেনেজুয়েলার সমাজতান্ত্রিক নেতা হুগো চ্যাভেজের সময় থেকেই আমেরিকার সাথে দেশটির দ্বন্দ্ব শুরু হয়। চ্যাভেজের মৃত্যুর পর ২০১৩ সালে নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতায় এলে সেই তিক্ততা আরও বাড়ে। আমেরিকার ক্রমাগত অর্থনৈতিক অবরোধের ফলে তেলসমৃদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও ভেনেজুয়েলার অর্থনীতি ভেঙে পড়ে এবং লাখ লাখ মানুষ দেশ ত্যাগে বাধ্য হয়। মাদুরোর দাবি ছিল, তিনি ক্ষমতা ছাড়লে ভেনেজুয়েলা পুরোপুরি আমেরিকার দখলে চলে যাবে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও আইনি প্রশ্ন

এই অভিযানকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনা ও আইনি প্রশ্ন দেখা দিয়েছে:

জাতিসংঘের আইন: জাতিসংঘ সনদের ২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো স্বাধীন দেশে আগ্রাসন চালানো আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।

সার্বভৌমত্ব: বিশ্লেষকরা বলছেন, কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ অজুহাতে অন্য দেশের রাষ্ট্রপ্রধানকে আটক করার অধিকার কোনো রাষ্ট্রের নেই।

ভেনেজুয়েলার অবস্থান: মাদুরো নিখোঁজ থাকলেও দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আমেরিকার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে মাদুরোর জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

যদিও ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে তিনি অন্য কোনো দেশে আগ্রাসন চালাবেন না, তবে ভেনেজুয়েলার এই ঘটনা তার সেই প্রতিশ্রুতির বিপরীত চিত্রই ফুটিয়ে তুলছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।