ভেনেজুয়েলায় আমেরিকার সাম্প্রতিক সামরিক অভিযান এবং প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটকের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তাঁর মতে, ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি "বিপজ্জনক নজির" (dangerous precedent) তৈরি করছে।
শনিবার মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক এক বিবৃতিতে জানান, ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতির নাটকীয় অবনতি এবং আমেরিকার এই সামরিক হস্তক্ষেপে মহাসচিব অত্যন্ত শঙ্কিত। তিনি মনে করেন, এই ঘটনা আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন এবং এর ফলে ওই অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিতিশীলতা তৈরি হতে পারে।
আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা নেই?
জাতিসংঘের বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসংঘের সনদের প্রতি সব দেশের পূর্ণ সম্মান বজায় রাখা জরুরি। মহাসচিব গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করেছেন যে, বর্তমান অভিযানে এই নিয়মগুলো যথাযথভাবে মানা হয়নি। তিনি আরও বলেন, ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি যেমনই হোক না কেন, কোনো সার্বভৌম রাষ্ট্রে এভাবে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ এবং রাষ্ট্রপ্রধানকে আটক করা বিশ্ব ব্যবস্থার জন্য একটি অশনি সংকেত।
জরুরি বৈঠকের আহ্বান
এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে ভেনেজুয়েলা এবং কলম্বিয়া, রাশিয়া ও চীনের সমর্থনে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের একটি জরুরি বৈঠক ডাকার অনুরোধ জানিয়েছে। তারা এই আক্রমণকে একটি শান্তিপূর্ণ দেশের ওপর "বিশ্বাসঘাতকতামূলক" হামলা হিসেবে বর্ণনা করেছে। ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রদূত স্যামুয়েল মোনকাদা নিরাপত্তা পরিষদকে সতর্ক করে বলেছেন, আমেরিকার এই কর্মকাণ্ড আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি।
প্রেক্ষাপট ও ট্রাম্পের অবস্থান
উল্লেখ্য যে, নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ভেনেজুয়েলায় এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই মাদুরো সরকারের বিরুদ্ধে মাদক পাচার এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে আসছিল। এই অভিযানের মাধ্যমে মাদুরোকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ট্রাম্প একে "বিপ্লবী পদক্ষেপ" এবং "ভেনেজুয়েলার মুক্তি" হিসেবে বর্ণনা করলেও বিশ্বজুড়ে এর আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
জাতিসংঘ মহাসচিব সকল পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের এবং মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন।
সূত্র: দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল