এখন সময় ডেস্ক • প্রকাশিত: ২২ নভেম্বার ২০২৫, ০৫:১২ এ এম • অনলাইন সংস্করণ

ভুয়া আইস এজেন্ট সেজে হুমকি: গ্রেপ্তার এনওয়াইপিডি সার্জেন্ট আতিক

ভুয়া আইস এজেন্ট সেজে হুমকি: গ্রেপ্তার এনওয়াইপিডি সার্জেন্ট আতিক

পরকীয়া প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় ভুয়া আইস এজেন্ট পরিচয়ে এক নারীকে ভয় দেখানোর অভিযোগে নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের (এনওয়াইপিডি) সার্জেন্ট আতিকুল ইসলামকে (২৯) গ্রেপ্তার করেছে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ। তিনি বাংলাদেশি–আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের (বাপা) সদস্য বলেও জানা গেছে।

নিউইয়র্ক পোস্টে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ফেসবুকে পরিচিত এক নারীর কাছে রোমান্টিক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর আতিকুল ইসলাম প্রতিশোধমূলক আচরণ শুরু করেন। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, গত মার্চে ডিউটির বাইরে থাকা অবস্থায় তিনি ফোন ও মেসেজে ওই নারীকে জানান যে, আইস তার বাসায় পাঠানো হবে। তিনি নিজেকে আইস ফিল্ড ডিরেক্টর পরিচয় দিয়ে নারীর পরিবারকে নির্দিষ্ট তারিখে নিউইয়র্ক সিটির আইস কার্যালয়ে রিপোর্ট করতে বলেন।

তদন্তে উঠে আসে, আতিক অনলাইনে ‘জেমস ডব্লিউ অ্যান্ডারসন’ নামে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করতেন। ভুক্তভোগী নারী এনওয়াইপিডির ইন্টারনাল অ্যাফেয়ার্স ব্যুরোতে অভিযোগ করলে বিষয়টি ফেডারেল পর্যায়ে গড়ায়। তদন্তে নিশ্চিত হওয়া যায়, আইস কর্মকর্তার ভুয়া পরিচয় দেওয়া একটি গুরুতর ফেডারেল অপরাধ।

পরবর্তীতে একমাত্র মিথ্যা ফেডারেল পরিচয় ব্যবহারের অভিযোগে আতিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে ব্রুকলিন ম্যাজিস্ট্রেট বিচারক ট্যারিন মার্কেলের আদালতে হাজির করা হলে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। বিচারক তাকে ২৫ হাজার ডলারের ব্যক্তিগত বন্ডে জামিন দেন এবং ভুক্তভোগীর সঙ্গে যেকোনো ধরনের যোগাযোগ ও তার বাড়ির আশেপাশে যাওয়া নিষিদ্ধ করেন।

আতিকুল ইসলামের আইনজীবী জন আরলিয়া জানান, এনওয়াইপিডি তার ব্যাজ ও সার্ভিস অস্ত্র জব্দ করে তাকে বেতনসহ সাময়িক বরখাস্ত করেছে। তিনি আরও বলেন, তার মক্কেল অভিযোগের বিরুদ্ধে লড়াই করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

আদালত প্রাঙ্গণ ত্যাগের সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নে আতিক কোনো মন্তব্য করেননি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৬ সালের ৬ জানুয়ারি।