এখন সময় ডেস্ক • প্রকাশিত: ০৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:১৭ এ এম • অনলাইন সংস্করণ

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্করের মন্তব্যের কড়া জবাব দিল পাকিস্তান

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্করের মন্তব্যের কড়া জবাব দিল পাকিস্তান

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।2 শনিবার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ইসলামাবাদ সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, সিন্ধু পানি চুক্তি এবং জম্মু-কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানের অবস্থান অপরিবর্তিত। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যকে প্রত্যাখ্যান করে পাকিস্তান দাবি করেছে, ভারত আসলে নিজেদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড থেকে বিশ্ববাসীর নজর সরাতেই প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ তুলছে।

পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র তাহির হোসেন আন্দ্রাবি এক বিবৃতিতে বলেন, ভারত নিজেই সন্ত্রাসবাদ উসকে দিয়ে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করছে। পাকিস্তান তাদের বক্তব্যে কুলভূষণ যাদবের প্রসঙ্গ টেনে আনে এবং একে রাষ্ট্রীয় মদতপুষ্ট সন্ত্রাসবাদের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে। আন্দ্রাবি আরও বলেন, ভারত অবৈধভাবে জম্মু-কাশ্মীর দখল করে রেখেছে এবং সেখানকার জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তান তার রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমর্থন অব্যাহত রাখবে।

এর আগে জয়শঙ্কর এক জনসভায় বলেছিলেন যে, দশকের পর দশক ধরে সন্ত্রাসবাদ চললে প্রতিবেশী সুলভ আচরণ বজায় রাখা সম্ভব নয়। তিনি পানি বণ্টন চুক্তির প্রসঙ্গ টেনে বলেন, একদিকে সন্ত্রাসবাদ চালানো হবে আর অন্যদিকে পানি ভাগাভাগির সুবিধা চাওয়া হবে—এই দুই নীতি একসঙ্গে চলতে পারে না। ভারতের এমন অবস্থানের বিপরীতে পাকিস্তান সতর্ক করে জানিয়েছে, সিন্ধু পানি চুক্তি একটি আন্তর্জাতিক সমঝোতা এবং এর থেকে ভারতের যেকোনো একতরফা সরে আসার চেষ্টা আঞ্চলিক শান্তিকে চরম ঝুঁকিতে ফেলবে। পাকিস্তান এই চুক্তির আওতায় তার অধিকার রক্ষায় যেকোনো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।

কৌতূহলোদ্দীপক বিষয় হলো, গত মে মাসে ঘটে যাওয়া সামরিক সংঘাতের পর এই প্রথম দুই দেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি সংক্ষিপ্ত সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়েছে। বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে ঢাকা সফরে থাকাকালীন ভারতের জয়শঙ্কর এবং পাকিস্তানের স্পিকার আয়াজ সাদিক একে অপরের সঙ্গে করমর্দন করেন। এই সৌজন্য সাক্ষাতের পরপরই দুই দেশের মধ্যে আবার এমন উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় শুরু হলো। সিন্ধু পানি চুক্তি এবং কাশ্মীর ইস্যুতে দুই দেশের এই অনড় অবস্থান দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করছে।