খেলাধুলা ডেস্ক • প্রকাশিত: ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৪:০২ এ এম • অনলাইন সংস্করণ

বিশ্বকাপে ফিফার রেকর্ড আয়

বিশ্বকাপে ফিফার রেকর্ড আয়

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ ফিফার ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি আয়ের টুর্নামেন্ট হিসেবে নতুন রেকর্ড গড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই বিশ্বকাপ থেকে আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি আয় করেছে প্রায় ১৫২০ কোটি মার্কিন ডলার।

প্রথমবারের মতো ৪৮ দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হওয়া এই বিশ্বকাপে মোট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে ১০৪টি। দল ও ম্যাচসংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি সম্প্রচার স্বত্ব, টিকিট বিক্রি, স্পন্সরশিপ এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকে বিপুল অর্থ এসেছে ফিফার কোষাগারে।

ফিফা জানিয়েছে, বিশ্বকাপ থেকে অর্জিত এই অর্থের একটি বড় অংশ বিশ্বব্যাপী ফুটবলের উন্নয়নে ব্যয় করা হবে। ফুটবল উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন দেশের জাতীয় ফুটবল ফেডারেশনকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু করে পেশাদার ফুটবলের অবকাঠামো উন্নয়নেও এই অর্থ ব্যবহার করা হবে।

আয়ের হিসাবে আগের সব বিশ্বকাপকে অনেকটাই ছাড়িয়ে গেছে ২০২৬ আসর। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ থেকে ফিফার আয় হয়েছিল প্রায় ৭৬০ কোটি ডলার। এর আগে ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপ থেকে ৫৫০ কোটি ডলার, ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপ থেকে ৪৭০ কোটি ডলার এবং ২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপ থেকে আয় হয়েছিল প্রায় ৩৩০ কোটি ডলার। অর্থাৎ, মাত্র এক বিশ্বকাপের ব্যবধানে ফিফার আয় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই রেকর্ড আয়ের অন্যতম কারণ হলো বিশ্বকাপের সম্প্রসারিত ফরম্যাট। ৩২ দলের পরিবর্তে ৪৮ দল অংশ নেওয়ায় ম্যাচসংখ্যা বেড়েছে, ফলে বেড়েছে টিকিট বিক্রি ও সম্প্রচার স্বত্বের বাজারমূল্য। পাশাপাশি বিশ্বকাপকে ঘিরে বাণিজ্যিক কার্যক্রমও উল্লেখযোগ্যভাবে বিস্তৃত হয়েছে।

এবারের বিশ্বকাপ আয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ভোক্তা বাজার এবং শক্তিশালী বিনোদন ও বিপণন খাতের কারণে বিশ্বকাপকে ঘিরে করপোরেট আগ্রহ ছিল ব্যাপক। এতে স্পন্সরশিপ ও বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব থেকে ফিফার আয় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

উচ্চমূল্যের টিকিট নিয়েও আলোচনা ছিল ব্যাপক। ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার অনেক সমর্থকের কাছে টিকিটের দাম বেশি মনে হলেও যুক্তরাষ্ট্রের দর্শকদের মধ্যে তার প্রভাব তেমন দেখা যায়নি। ফাইনাল ম্যাচের ওপরের গ্যালারির একটি সাধারণ আসনের টিকিটের দাম ছিল প্রায় ১১ হাজার ৭০০ মার্কিন ডলার, যা কিনতেও আগ্রহ দেখিয়েছেন ফুটবলপ্রেমীরা।

সব মিলিয়ে, ২০২৬ বিশ্বকাপ শুধু মাঠের লড়াইয়েই নয়, বাণিজ্যিক সাফল্যের দিক থেকেও ফুটবল ইতিহাসে একটি নতুন মাইলফলক হয়ে থাকল।