এখন সময় ডেস্ক • প্রকাশিত: ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩৫ পিএম • অনলাইন সংস্করণ

বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়নদের হাতে উঠবে ৬১৬ কোটি টাকা,বাকিরা কে কত?

বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়নদের হাতে উঠবে ৬১৬ কোটি টাকা,বাকিরা কে কত?

ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই বিশ্বসেরাদের লড়াই। তবে মাঠের উত্তেজনার পাশাপাশি এবার আলোচনার বড় একটি বিষয় রেকর্ড পরিমাণ প্রাইজমানি। ৪৮ দলের বিস্তৃত এই বিশ্বকাপের জন্য ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৬৫ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলারের প্রাইজ ফান্ড ঘোষণা করেছে ফিফা, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৮ হাজার কোটি টাকারও বেশি। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় এই অর্থ প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি।

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফ্যান্তিনো টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই বলেছিলেন, এটি হবে বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় আসর। দল ও ম্যাচ সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রাইজমানির অঙ্কেও সেই ঘোষণার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।

আগামী রোববার নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফাইনালে মুখোমুখি হবে স্পেন ও আর্জেন্টিনা। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দল পুরস্কার হিসেবে পাবে ৫ কোটি মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬১৬ কোটি টাকা। রানার্স-আপ দল পাবে ৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার বা প্রায় ৪০৬ কোটি টাকা।

অন্যদিকে, তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে জয়ী দল পাবে ২ কোটি ৯০ লাখ ডলার (প্রায় ৩৫৭ কোটি টাকা)। চতুর্থ স্থান অর্জনকারী দলের জন্য থাকছে ২ কোটি ৭০ লাখ ডলার (প্রায় ৩৩৩ কোটি টাকা)।

কোন দল কত প্রাইজমানি পাচ্ছে

বিশ্বচ্যাম্পিয়ন: ৫ কোটি ডলার (প্রায় ৬১৬ কোটি টাকা)

রানার্স-আপ: ৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার (প্রায় ৪০৬ কোটি টাকা)

তৃতীয় স্থান: ২ কোটি ৯০ লাখ ডলার (প্রায় ৩৫৭ কোটি টাকা)

চতুর্থ স্থান: ২ কোটি ৭০ লাখ ডলার (প্রায় ৩৩৩ কোটি টাকা)

কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নেওয়া প্রতিটি দল: ১ কোটি ৯০ লাখ ডলার

শেষ ষোলো থেকে বিদায় নেওয়া প্রতিটি দল: ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার

শেষ ৩২ থেকে বিদায় নেওয়া প্রতিটি দল: ১ কোটি ১০ লাখ ডলার

গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়া প্রতিটি দল: ৯০ লাখ ডলার

প্রস্তুতি ব্যয় বাবদ প্রতিটি অংশগ্রহণকারী দলের জন্য অতিরিক্ত: ১৫ লাখ ডলার

অর্থাৎ, বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ৪৮টি দলের প্রত্যেকের জন্যই অন্তত ১ কোটি ৫ লাখ ডলার নিশ্চিত ছিল।

ফিফার আয়ের রেকর্ড

৪৮ দলের এই বিশ্বকাপ থেকে ফিফার রাজস্ব আয় ১০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে প্রক্ষেপণ রয়েছে। সেই হিসাবে মোট আয়ের মাত্র ৬ দশমিক ৫ শতাংশ দলগুলোর প্রাইজমানি হিসেবে বিতরণ করা হচ্ছে।

এই টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে ফিফার চার বছরের মোট আয় (সাইকেল) দাঁড়াতে পারে রেকর্ড ১৩ বিলিয়ন ডলারে। যা ২০২২ বিশ্বকাপসহ আগের চার বছরের চক্রের ৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের আয়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

চ্যাম্পিয়নদের পুরস্কারে বড় লাফ

কাতার বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয়ে আর্জেন্টিনা পেয়েছিল ৪ কোটি ২০ লাখ ডলার। এবার সেই অঙ্ক বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ কোটি ডলারে। অর্থাৎ চ্যাম্পিয়ন দল অতিরিক্ত ৮০ লাখ ডলার বেশি পাচ্ছে। রানার্স-আপ দলও গত বিশ্বকাপের তুলনায় ৩০ লাখ ডলার বেশি পুরস্কার পাবে।

২২ লাখ ডলার থেকে ৫ কোটি ডলার

ফিফা প্রথম বিশ্বকাপের প্রাইজমানির হিসাব প্রকাশ করে ১৯৮২ সালের স্পেন বিশ্বকাপে। সেবার চ্যাম্পিয়ন ইতালির প্রাপ্তি ছিল মাত্র ২২ লাখ ডলার। পুরো টুর্নামেন্টের মোট প্রাইজমানিই ছিল ২ কোটি ডলার।

চার দশকের কিছু বেশি সময়ে সেই চিত্র আমূল বদলে গেছে। এবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দল একাই পাচ্ছে ৫ কোটি ডলার, যা ১৯৮২ সালের চ্যাম্পিয়নদের প্রাপ্ত অর্থের প্রায় ২৩ গুণ।

শুধু ট্রফি নয়, থাকবে স্বর্ণপদকও

বিশ্বকাপজয়ী দলের ২৬ জন খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফের প্রত্যেকের গলায় উঠবে স্বর্ণপদক। রানার্স-আপ দল পাবে রৌপ্যপদক এবং তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দল পাবে ব্রোঞ্জপদক।

তবে অতীতে এই নিয়ম ছিল ভিন্ন। ১৯৭৮ সালের আগে কেবল ফাইনালের মূল একাদশের খেলোয়াড়রাই পদক পেতেন। পরে ২০০৭ সালে ফিফা ১৯৭৪ এবং তার আগের বিশ্বকাপজয়ী দলগুলোর স্কোয়াডে থাকা কিন্তু ফাইনালে না খেলা ফুটবলারদের জন্যও ভূতাপেক্ষভাবে ১২২টি পদক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

এ ছাড়া ফাইনাল পরিচালনাকারী ম্যাচ অফিসিয়ালদেরও বিশেষ মেডেল প্রদান করা হয়।

ব্যক্তিগত পুরস্কারেও থাকছে উত্তেজনা

ফাইনাল শেষে টুর্নামেন্টসেরা ফুটবলার পাবেন 'গোল্ডেন বল'। সেরা গোলরক্ষকের হাতে উঠবে 'গোল্ডেন গ্লাভস' এবং সর্বোচ্চ গোলদাতা জিতবেন 'গোল্ডেন বুট'। এবার এই পুরস্কারের দৌড়ে রয়েছেন লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপে, জুড বেলিংহাম ও হ্যারি কেইনের মতো তারকারা।

তবে ব্যক্তিগত এই সম্মানজনক পুরস্কারগুলোর সঙ্গে কোনো অতিরিক্ত অর্থ পুরস্কার যুক্ত থাকে না।

রেকর্ড প্রাইজমানি, রেকর্ড রাজস্ব আয় এবং বিশ্ব ফুটবলের সেরাদের মহারণ, সব মিলিয়ে এবারের বিশ্বকাপ শুধু মাঠের লড়াইয়েই নয়, অর্থনৈতিক দিক থেকেও ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আয়োজন হয়ে উঠেছে।