মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি দক্ষ শ্রমিকের প্রয়োজন হয়, কারণ দেশটির নিজস্ব কর্মীরা সব সময় “প্রয়োজনীয় প্রতিভা” রাখেন না। মঙ্গলবার ফক্স নিউজে প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন।
ফক্স নিউজের উপস্থাপক লরা ইনগ্রাহামের প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, “আমাদের প্রতিভা আনতে হবে।” ইনগ্রাহাম পাল্টা বলেন, “আমাদের দেশে তো প্রচুর প্রতিভাবান মানুষ আছে।” এর জবাবে ট্রাম্প বলেন, “না, কিছু দক্ষতা এখানে নেই। মানুষকে সেগুলো শেখার প্রয়োজন আছে।”
তিনি ব্যাখ্যা করেন, শুধু বেকারদের সারি থেকে লোক এনে বড় কোনো প্রকল্পে কাজ করানো সম্ভব নয়। “আপনি বেকারদের লাইন থেকে কাউকে নিয়ে গিয়ে বলতে পারেন না, ‘তুমি এখন মিসাইল কারখানায় কাজ করবে।’ এটা এত সহজ নয়,” বলেন ট্রাম্প।
এই মন্তব্যে ট্রাম্প পরোক্ষভাবে স্বীকার করেছেন যে, অভিবাসীরা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যদিও তার প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির কারণে বহু বৈধ অভিবাসীও নানা জটিলতায় পড়েছেন।
গত সেপ্টেম্বর ট্রাম্প এমন এক নির্দেশে স্বাক্ষর করেন, যার ফলে এইচ-১বি ভিসা পেতে কোম্পানিগুলোর খরচ বেড়ে দাঁড়ায় এক লাখ ডলার পর্যন্ত। এটি কংগ্রেসের অভিবাসন-বিরোধী অংশের জন্য রাজনৈতিক সাফল্য হলেও প্রযুক্তি খাতের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
এইচ-১বি কর্মী ভিসা কর্মসূচিটি ১৯৯০ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ.ডব্লিউ. বুশের আমলে চালু হয়েছিল। ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার আগে থেকেই তার শিবিরে এ নিয়ে বিতর্ক চলছিল। রিপাবলিকান রাজনীতিক বিবেক রামাস্বামী, যাকে ট্রাম্প ওহাইও গভর্নর পদে সমর্থন করেছেন, এক পোস্টে লিখেছিলেন, “আমেরিকার সংস্কৃতি মাঝারি মানকে প্রশংসা করে, উৎকর্ষকে নয়।”
এ সময় ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থানকে সমর্থন করে বলেন, “শ্রেষ্ঠ প্রতিভা যেখানেই থাকুক, সেখান থেকেই তাদের নিয়োগ দেওয়া উচিত।”
এই বক্তব্যগুলো ট্রাম্প শিবিরের মধ্যেই মতবিরোধ তৈরি করে, বিশেষ করে কংগ্রেসের অভিবাসন-বিরোধী গোষ্ঠী ও সিলিকন ভ্যালির করপোরেট নেতৃত্বের মধ্যে।
এছাড়া ট্রাম্প সম্প্রতি কৃষিখাতের জন্য অভিবাসী শ্রমিকদের ‘অস্থায়ী অনুমতি’ দেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছেন। তার বক্তব্য, “কৃষিকাজ কঠিন পরিশ্রমের কাজ, অনেকে তা করতে চায় না। আর যদি এই শ্রমিকদের সরিয়ে নেওয়া হয়, তাহলে কৃষকরা বিপদে পড়বে।”
ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, অভিবাসন নিয়ে তার অবস্থান আগের তুলনায় অনেক বেশি বাস্তবমুখী হয়ে উঠেছে—যেখানে তিনি অর্থনৈতিক প্রয়োজন ও রাজনৈতিক চাপের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করার চেষ্টা করছেন।