এখন সময় ডেস্ক • প্রকাশিত: ১৬ নভেম্বার ২০২৫, ০৮:৫৬ এ এম • অনলাইন সংস্করণ

বিদেশি ছাত্র–সাংবাদিক ভিসা কড়াকড়ি: ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সমালোচনা

বিদেশি ছাত্র–সাংবাদিক ভিসা কড়াকড়ি: ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সমালোচনা

যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষ অভিবাসী কর্মী আনার পথ সহজ করা উচিত—সপ্তাহের শুরুতে এমন মন্তব্য করে নিজ দল ও সমর্থকঘরানার রক্ষণশীলদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এইচ–১বি ভিসা নিয়ে তাঁর মন্তব্য ব্যবসায়িক মহলের মতের সঙ্গে মিললেও বহু সমর্থকের মতে এটি অভিবাসননীতিতে ‘নরম অবস্থান’।

এরই মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসন নীরবে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, গবেষণা–বিনিময় কর্মসূচির অংশগ্রহণকারী এবং বিদেশি সাংবাদিকদের জন্য নতুন বিধিনিষেধের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস)–এর প্রস্তাবিত নতুন বিধি অনুযায়ী, এফ, জে ও আই ভিসাধারী (শিক্ষার্থী, এক্সচেঞ্জ ভিজিটর ও বিদেশি গণমাধ্যমকর্মী) আর অনির্দিষ্টকাল যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করতে পারবেন না। বর্তমানে বৈধ ভিসার শর্ত মেনে চললে তারা মেয়াদসীমা ছাড়াই দেশে থাকতে পারেন।

নতুন বিধি চালু হলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও বিনিময় কর্মসূচির অংশগ্রহণকারীরা সর্বোচ্চ চার বছর এবং বিদেশি সাংবাদিকেরা ২৪০ দিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে পারবেন। চীনের সাংবাদিকদের জন্য এই সময়সীমা মাত্র ৯০ দিন। নির্ধারিত সময়ের অতিরিক্ত থাকার প্রয়োজন হলে আলাদা আবেদন করতে হবে।

স্ট্যানফোর্ড ল’ স্কুলের অধ্যাপক লুকাস গুটেনট্যাগ বলেন, এটি হবে ‘অত্যন্ত বড় ধরনের পরিবর্তন’, যার ফলে ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান উভয়ই বড় প্রভাবের মুখে পড়বে। ডিএইচএস তাদের প্রস্তাবে স্বীকার করেছে, নতুন নিয়ম অতিরিক্ত ব্যয় ও জটিলতা তৈরি করবে, তবে এফ, জে ও আই প্রোগ্রামের ‘স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা রক্ষায়’ এই পরিবর্তন প্রয়োজন।

প্রস্তাবটি নিয়ে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংস্থাটিতে ২০ হাজারের বেশি জনমত জমা পড়ে। কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটি, প্রেসিডেন্টস অ্যালায়েন্স অন হায়ার এডুকেশন অ্যান্ড ইমিগ্রেশনসহ নানা শিক্ষা ও অভিবাসন–সংক্রান্ত সংগঠন এর বিরোধিতা করেছে। আমেরিকান ইমিগ্রেশন লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন ও আমেরিকান ইমিগ্রেশন কাউন্সিলের যৌথ মতামতে বলা হয়েছে—নতুন নিয়ম দুর্বল যুক্তি ও অপ্রমাণিত অভিযোগের ওপর দাঁড়িয়ে আছে, যা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, মার্কিন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও নিয়োগদাতাদের ক্ষতি করবে।

ডিএইচএস দাবি করছে, এফ, জে ও আই ভিসায় আগত বিদেশিদের সংখ্যা ‘উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে’, ফলে তাদের তদারকি করা কঠিন হচ্ছে। নতুন বিধান নাকি অপব্যবহার কমাতে সহায়ক হবে। তবে বিশেষজ্ঞেরা এটিকে অমূলক অভিযোগ বলে মনে করছেন। আমেরিকান ইমিগ্রেশন লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তা কেট অ্যাঙ্গুস্টিয়া বলেন, সব ক্ষেত্রেই কিছু অনিয়ম থাকতে পারে, কিন্তু এটিকে ব্যাপক অপব্যবহারের রূপ দিয়ে বড় পরিবর্তন আনা যুক্তিযুক্ত নয়। গুটেনট্যাগও প্রশাসনের অভিযোগকে “অযাচাইকৃত ও অতিরঞ্জিত” বলে উল্লেখ করেন।

সমালোচকেরা বলছেন, শুধু এই একটি নিয়মই নয়—ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসনবিরোধী নানান পদক্ষেপ মিলেই জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে বিদেশি ছাত্রদের ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভের কারণে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করা হয়, যা পরে বোস্টনের এক বিচারক অসাংবিধানিক বলে রায় দেন।

নতুন নিয়ম সাংবাদিকতার ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মন্তব্য করেছে রিপোটার্স উইদাউট বর্ডারস। সংস্থাটি বলেছে, এটি বিদেশি সাংবাদিকদের জন্য অপ্রয়োজনীয় বাধা তৈরি করবে এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতায় শীতল প্রভাব ফেলবে।

আইনগতভাবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার কোনো বাধ্যতামূলক সময়সীমা নেই। ডিএইচএস চাইলে নিয়ম চালু করতে পারে, আবার পুরো প্রস্তাবটি ফিরিয়েও নিতে পারে।