এখন সময় ডেস্ক • প্রকাশিত: ২৭ নভেম্বার ২০২৫, ০৭:০২ পিএম • অনলাইন সংস্করণ

বাইডেন আমলে স্বীকৃতি পাওয়া শরণার্থীদের ফের যাচাই করবে ট্রাম্প প্রশাসন

বাইডেন আমলে স্বীকৃতি পাওয়া শরণার্থীদের ফের যাচাই করবে ট্রাম্প প্রশাসন

ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রে বাইডেন আমলে স্বীকৃতি পাওয়া কিছু শরণার্থীকে পুনরায় সাক্ষাৎকারের মুখোমুখি করতে যাচ্ছে। অভ্যন্তরীণ একটি নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, তাদের মামলাগুলো বিস্তৃতভাবে পুনর্বিবেচনার অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী শরণার্থীদের নিয়েই ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি এবার নতুন মাত্রা পেল।

সাধারণত শরণার্থীদের নিজ দেশে নিপীড়নের শিকার হওয়া বা নিপীড়নের ঝুঁকি প্রমাণ করতে হয় এবং দীর্ঘমেয়াদি কঠোর যাচাই প্রক্রিয়ার পরই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়।

ট্রাম্প প্রশাসন বহুবার অভিযোগ করেছে যে বাইডেন প্রশাসন যথাযথ যাচাই না করেই শরণার্থীদের দেশে প্রবেশের অনুমতি দিয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় শরণার্থী গ্রহণ প্রায় স্থগিত করা হয়, যদিও শ্বেতাঙ্গ দক্ষিণ আফ্রিকানদের ক্ষেত্রে সংকীর্ণ ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে।

নথি অনুযায়ী, এই পুনর্বিবেচনা ও সাক্ষাৎকার গ্রহণের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে যুক্তরাষ্ট্র নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থাকে। ২০২১ থেকে ২০২৫ অর্থবছরের মধ্যে প্রায় ২ লাখ ৩৫ হাজার শরণার্থী যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছে। নথিতে বলা হয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা ও জননিরাপত্তার জন্য সম্ভাব্য হুমকি আছে কি না তা নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য।

ডিএইচএসের মুখপাত্র ট্রিসিয়া ম্যাকলাফলিন জানিয়েছেন, বাইডেন প্রশাসনের ‘হঠকারী নীতি’ অভিবাসন ব্যবস্থার নিরাপত্তা ক্ষুণ্ন করেছে এবং জনগণের ঝুঁকি বাড়িয়েছে। তাই এখন সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

১৯৮০ সালের শরণার্থী আইনের পর যুক্তরাষ্ট্র বাৎসরিকভাবে অন্যান্য দেশের তুলনায় সর্বাধিক শরণার্থী গ্রহণ করেছে। তবে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে সংখ্যা বড় ধরনের কমে যায় এবং করোনা মহামারির সময় পুনর্বাসন স্থগিত হয়। বাইডেন ক্ষমতায় এসে পুনর্বাসন কর্মসূচি পুনর্গঠনের চেষ্টা করেন এবং বার্ষিক সর্বোচ্চ সীমা ১ লাখ ২৫ হাজারে নির্ধারণ করেন।

শরণার্থী সহায়তা সংস্থা HIAS–এর প্রেসিডেন্ট মার্ক হেটফিল্ড বলেছেন, এই পদক্ষেপ অমানবিক ও শরণার্থীদের জন্য পুনরায় ট্রমার কারণ হবে। তাঁর দাবি, এই কাজের জন্য জনগণের করের অর্থ অপচয় করা হবে।

রিফিউজিস ইন্টারন্যাশনালের প্রেসিডেন্ট জেরেমি কনিনডাইক জানান, শরণার্থীরাই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আগে সবচেয়ে কঠোর যাচাইয়ের মুখোমুখি হয়। তিনি অভিযোগ করেন, যখন ট্রাম্প প্রশাসন শ্বেতাঙ্গ দক্ষিণ আফ্রিকানদের পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে, তখন প্রকৃত শরণার্থীদের নিরাপত্তা কেড়ে নেওয়ার প্রয়াস নিছক অজুহাত ছাড়া আর কিছু নয়।

জানা গেছে, পুনঃসাক্ষাৎকারের উদ্দেশ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় তারা প্রকৃতপক্ষে শরণার্থীর মানদণ্ড পূরণ করেছিলেন কি না, তা নিশ্চিত করা। নথিতে বলা হয়েছে, প্রয়োজনে তাদের শরণার্থী স্বীকৃতি বাতিল করা যেতে পারে এবং এতে আপিলের সুযোগ থাকবে না। পাশাপাশি, যেসব শরণার্থী স্থায়ী বাসিন্দার জন্য আবেদন করেছেন, সেসব আবেদনও স্থগিতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে এক অনুষ্ঠানে মার্কিন উপ–পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস ল্যান্ডাউ দাবি করেন, বর্তমান বৈশ্বিক আশ্রয় কাঠামো পুরোনো এবং অপব্যবহারের ফলে তা সীমান্ত অতিক্রমের বেআইনি পথকে বৈধ করে তুলেছে। তাঁর মতে, আশ্রয় ব্যবস্থা এখন অভিবাসন আইনের বড় ফাঁক হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা নতুন বাস্তবতার আলোকে পুনর্বিন্যাস করা প্রয়োজন।