এখন সময় ডেস্ক • প্রকাশিত: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৬ পিএম • অনলাইন সংস্করণ

বাংলাদেশের নতুন পে স্কেলের অর্থায়ন পরিকল্পনা জানতে চায় আইএমএফ

বাংলাদেশের নতুন পে স্কেলের অর্থায়ন পরিকল্পনা জানতে চায় আইএমএফ

বাংলাদেশ সরকারের ঘোষিত নবম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়নের অর্থায়ন পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। নতুন ঋণ কর্মসূচির বিষয়ে আলোচনার আগে সংস্থাটি জানতে চাইছে, অতিরিক্ত সরকারি ব্যয় কীভাবে মেটানো হবে এবং এর ফলে মূল্যস্ফীতি, বাজেট ঘাটতি ও সামষ্টিক অর্থনীতির ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ১২ থেকে ১৬ জুলাই আইএমএফের একটি প্রতিনিধি দল ঢাকা সফর করবে। সফরে সরকারের অর্থনৈতিক নীতি, রাজস্ব আহরণ, বাজেট ব্যবস্থাপনা, বৈদেশিক ঋণ, ব্যাংকিং খাতের সংস্কার এবং নবম পে স্কেলের অর্থায়ন পরিকল্পনা নিয়ে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম দিন অর্থ বিভাগের সঙ্গে রাজস্বনীতি, মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামো ও অর্থায়ন কৌশল নিয়ে আলোচনা হবে। পরবর্তী বৈঠকের মূল বিষয় থাকবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো।

চলতি অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নবম পে স্কেল কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছেন। সরকারের হিসাব অনুযায়ী, প্রথম ধাপে এটি বাস্তবায়নে ৪৪ হাজার কোটি টাকার বেশি প্রয়োজন হবে, যা বাজেটের অপ্রত্যাশিত ব্যয় খাতে সংরক্ষণ করা হয়েছে। তবে জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে বার্ষিক ব্যয় এক লাখ ছয় হাজার কোটি টাকারও বেশি হতে পারে।

এই ব্যয় মেটাতে সরকারের সক্ষমতা নিয়েই আইএমএফের প্রধান আগ্রহ। সংস্থাটি জানতে চাইছে, রাজস্ব আদায়ের বর্তমান ধারা, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং তুলনামূলক ধীর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মধ্যে সরকার কীভাবে অতিরিক্ত ব্যয়ের ভার বহন করবে। একই সঙ্গে কর আদায় বৃদ্ধি, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং ঋণ ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনাও জানতে চাওয়া হবে।

বাংলাদেশ বর্তমানে আইএমএফের কাছে একটি নতুন ঋণ কর্মসূচির আবেদন করেছে। সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে রাজস্ব প্রশাসনের সংস্কার, ব্যাংকিং খাত পুনর্গঠন, জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। কর্মকর্তাদের আশা, চলমান আলোচনার মাধ্যমে নতুন ঋণ কর্মসূচির বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হবে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত দীর্ঘদিন ধরেই নিম্ন পর্যায়ে রয়েছে, অন্যদিকে সরকারি ব্যয় ক্রমাগত বাড়ছে। ফলে বড় পরিসরের বেতন বৃদ্ধি বাস্তবায়নের আগে টেকসই অর্থায়নের উৎস নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সময়ে রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি, খেলাপি ঋণের উচ্চ হার এবং দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতি সরকারের জন্য অতিরিক্ত চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আইএমএফের মূল্যায়ন শুধু নতুন ঋণ অনুমোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সংস্থাটি দেখতে চায় বাংলাদেশ কতটা কার্যকরভাবে রাজস্ব সংগ্রহ বাড়াতে, ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং সরকারি ব্যয় আরও দক্ষভাবে পরিচালনা করতে সক্ষম হচ্ছে। এসব সংস্কারের অগ্রগতিই নতুন ঋণ কর্মসূচির ভবিষ্যৎ এবং দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।