বিশ্বজুড়ে ফুটবলের অবকাঠামগত উন্নয়নের লক্ষ্যে সৌদি আরবের সরকারি উন্নয়ন তহবিলের সঙ্গে একটি বড় অংশীদারিত্বের ঘোষণা দিয়েছে ফিফা। এই চুক্তির আওতায় স্টেডিয়াম নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য প্রায় ১ বিলিয়ন বা ১০০ কোটি ডলারের (৭৬ কোটি ২০ লাখ পাউন্ড) তহবিল গঠনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
সোমবার বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, তারা সৌদি ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্টের (এসএফডি) সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তির অধীনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে স্টেডিয়াম নির্মাণ এবং আধুনিকায়নের জন্য সহজ শর্তে বা রেয়াতি হারে ঋণ দেওয়া হবে। ফিফা জানিয়েছে, ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে মূলত উন্নয়নশীল দেশগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
এই অংশীদারিত্বের লক্ষ্য হলো জাতীয় সরকারগুলোকে আধুনিক ও বহুমুখী ক্রীড়া ভেন্যুগুলোর নকশা তৈরি, অর্থায়ন এবং নির্মাণে সহায়তা করা। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ফিফা অনুমোদিত টুর্নামেন্ট আয়োজন করার মতো পর্যাপ্ত স্টেডিয়াম বা অবকাঠামো অনেক সদস্য দেশের নেই। এই চুক্তিটি ফুটবলকে সত্যিকার অর্থে বিশ্বজনীন করতে এবং সদস্য দেশগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
ফিফার সঙ্গে সৌদি আরবের সম্পর্ক সাম্প্রতিক সময়ে বেশ গভীর হয়েছে। ২০৩৪ সালে পুরুষদের বিশ্বকাপ আয়োজন করতে যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটি। এর আগে গত বছর সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকো ফিফার সঙ্গে চার বছরের জন্য একটি বড় স্পনসরশিপ চুক্তি স্বাক্ষর করে ‘মেজর ওয়ার্ল্ডওয়াইড পার্টনার’ হিসেবে যুক্ত হয়েছে। এছাড়া গত গ্রীষ্মে ক্লাব বিশ্বকাপে সৌদি পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড (পিআইএফ) একটি আনুষ্ঠানিক অংশীদার ছিল এবং পিআইএফ-এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘সার্জ স্পোর্ট ইনভেস্টমেন্ট’ স্পোর্টস স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ডাজনের (DAZN) ১০০ কোটি ডলারের শেয়ার কিনেছে।
আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে সৌদি আরবের প্রভাব বিস্তারের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এই নতুন চুক্তিটিকে দেখা হচ্ছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সাক্ষাতের সময় সৌদি প্রতিনিধিদলের সদস্য হিসেবে ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোও উপস্থিত ছিলেন।
ফিফা একটি অলাভজনক সংস্থা এবং সাধারণত সংস্থাটি তাদের আয়ের অর্থ ‘ফিফা ফরোয়ার্ড’ কর্মসূচির মাধ্যমে সদস্য দেশগুলোর ফুটবল উন্নয়নে ব্যয় করে। তবে ফিফার মিডিয়া ডিরেক্টর ব্রায়ান সোয়ানসন জানান, নিয়মিত তহবিলগুলো মূলত অ্যাসোসিয়েশনগুলোর পরিচালন ব্যয় এবং তৃণমূল পর্যায়ে খেলার উন্নয়নে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু স্টেডিয়াম এবং বড় জাতীয় অবকাঠামো নির্মাণের জন্য ভিন্ন মাত্রার বিশাল অর্থায়ন প্রয়োজন, যা সাধারণ অনুদানের মাধ্যমে পূরণ করা কঠিন।
১৯৭৪ সাল থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসা সৌদি ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্ট দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে অবকাঠামো খাতে ঋণ দিয়ে আসছে। গত বছর পাকিস্তানে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে তারা ১০ কোটি ডলার ঋণ দিয়েছিল। তবে ফিফার মতে, তহবিলের অগ্রাধিকার এখন পরিবর্তিত হচ্ছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, পর্যটন বৃদ্ধি, জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন এবং সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ় করতে ক্রীড়া অবকাঠামোকে এখন তারা তাদের উন্নয়ন এজেন্ডার মূল উপাদান হিসেবে বিবেচনা করছে।