এখন সময় ডেস্ক • প্রকাশিত: ১৫ নভেম্বার ২০২৫, ০৬:০৪ এ এম • অনলাইন সংস্করণ

পারমাণবিক উত্তেজনায় স্থবির ট্রাম্প–পুতিন আলোচনা, শান্তি উদ্যোগে গভীর অচলাবস্থা

পারমাণবিক উত্তেজনায় স্থবির ট্রাম্প–পুতিন আলোচনা, শান্তি উদ্যোগে গভীর অচলাবস্থা

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ওয়াশিংটন ও মস্কোর সম্পর্ক দ্রুত অবনতির দিকে গেছে।

একদিকে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার তেল কোম্পানি রসনেফট ও লুকঅয়েলের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, অন্যদিকে রাশিয়া পরীক্ষা করেছে তাদের পারমাণবিক শক্তি চালিত বুরেভেস্টনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও পোসাইডন আন্ডারওয়াটার ড্রোন। উভয় দেশই পারমাণবিক পরীক্ষা পুনরায় শুরুর ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। বছরের শুরুতে দুই দেশের মধ্যে আংশিক অগ্রগতির লক্ষণ দেখা গেলেও এখন পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে বদলে গেছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফিরে এসে ইউক্রেনে যুদ্ধ বন্ধ করা এবং ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। শুরুতে দুই নেতা নিয়মিত ফোনালাপ ও আলাস্কায় শীর্ষ বৈঠকের মধ্য দিয়ে আলোচনার ক্ষেত্র তৈরি করেন। বিশেষ দূত হিসেবে ট্রাম্প ব্যবসায়ী স্টিভ উইটকফকে পুতিনের সঙ্গে আলোচনায় পাঠান। দুই পক্ষই দাবি করেছিল অগ্রগতি হয়েছে, কিন্তু বাস্তবে আলোচনার সঙ্গতি ছিল কম। কূটনীতিকদের মতে, উইটকফ রাশিয়ার জটিল অবস্থান পুরোপুরি বুঝতে পারেননি, ফলে বারবার ভুল সংকেত গেছে উভয়পক্ষেই। আলাস্কার বৈঠকও প্রত্যাশিত ফল দেয়নি; বরং বৈঠক সংক্ষিপ্ত করা হয় এবং কোনো চুক্তি ছাড়াই দুই নেতা সংবাদ সম্মেলন শেষ করেন।

বিভিন্ন সূত্র জানায়, ট্রাম্প ইউক্রেনে যুদ্ধবিরতির বিনিময়ে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের প্রস্তাব দেন, কিন্তু পুতিন তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং ইউক্রেনের আত্মসমর্পণ ও ডনবাসের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ দাবি করেন। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, রাশিয়া আসলে যুদ্ধের রাজনৈতিক ও কৌশলগত লক্ষ্য ছাড়তে প্রস্তুত নয়। ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ অবস্থান, ভূখণ্ড, রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা– এসব মৌলিক বিষয়ে কোনো পক্ষই ছাড় দিচ্ছে না।

এরই মধ্যে বুদাপেস্টে সম্ভাব্য ট্রাম্প–পুতিন দ্বিতীয় শীর্ষ বৈঠক আয়োজনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ মাত্র একবার কথা বলেন, কোন বৈঠকই অনুষ্ঠিত হয়নি। রাশিয়া আগের দাবিই পুনর্ব্যক্ত করে একটি নতুন স্মারকলিপি পাঠায়, যা মার্কিনপক্ষকে আরও হতাশ করে।

ইউক্রেন ও ইউরোপীয় দেশগুলো ট্রাম্পকে বোঝাতে চেষ্টা করছে যে পুতিনের কাছে অতিরিক্ত ছাড় দেওয়া হলে তা পশ্চিমা নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করবে। ইউরোপীয় কূটনীতিকরা মনে করেন, সময় ক্ষয়ে রাশিয়ার প্রকৃত উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয়ে উঠছে এবং এ কারণেই আলোচনার গতি ধীর হচ্ছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দিলে পুতিন তা “চাপের মুখে নীতি পরিবর্তন করবে না” বলে মন্তব্য করেন। এরপরই রাশিয়ার পারমাণবিক সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ফলস্বরূপ, ট্রাম্প–পুতিন সংলাপ অচলাবস্থার দিকেই এগোচ্ছে এবং ইউক্রেন যুদ্ধ সমাধানের উদ্যোগ কার্যত স্থবির হয়ে গেছে।

সূত্র: বিবিসি।