দখলকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনী ও বসতিদের সহিংসতা গত এক মাসে ভয়াবহ মাত্রায় পৌঁছেছে। ফিলিস্তিনি উপনিবেশ ও দেয়াল প্রতিরোধ কমিশনের হিসাবে, জানুয়ারি মাসে পশ্চিম তীরজুড়ে ২,৩৫০টি হামলা চালানো হয়েছে। স্থানীয় সংস্থা বলছে, এসব হামলা এখন একটি নিয়মিত সন্ত্রাসচক্রে পরিণত হয়েছে।
সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে ১,৫০০–এর বেশি হামলা সংঘটিত হয়েছে। বাড়িঘর ভাঙচুর, কৃষিজমি লুটপাট, জলপাই গাছ ধ্বংস—এসব হামলার বড় অংশ ঘটেছে রামাল্লাহ, নাবলুস ও হেব্রন অঞ্চলে। জলপাই মৌসুমে কৃষকদের লক্ষ্য করে প্রায়শই হামলা বৃদ্ধি পায়, এবং এবারের প্রতিবেদনে সেই প্রবণতা আরও স্পষ্ট।
বসতিদের সহিংসতার সংখ্যাও বিপজ্জনকভাবে বেড়েছে, যা রিপোর্টে ৭৬৬টি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বসতি সম্প্রসারণকে কেন্দ্র করে ফিলিস্তিনি ভূমিতে নতুন আউটপোস্ট স্থাপনের কয়েকটি প্রচেষ্টাও নথিবদ্ধ হয়েছে। কমিশনের ভাষায়, এটি ভূমির মালিকদের উচ্ছেদ ও একটি বর্ণবাদী উপনিবেশিক ব্যবস্থাকে জোরদার করার ধারাবাহিক কৌশল।
বিভিন্ন এলাকায় জলপাই গাছ তুলে ফেলা, পোড়ানো বা বিষ প্রয়োগের ঘটনাও উল্লেখযোগ্য। বহু দশক ধরে পশ্চিম তীরে জলপাই গাছকে লক্ষ্য করে আক্রমণ চালানো হচ্ছে, যা ফিলিস্তিনি সংস্কৃতি ও জীবিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক।
এই সহিংসতা চলাকালেই ইসরায়েলের উচ্চপর্যায়ের পরিকল্পনা কাউন্সিল ১,৯৮৫টি নতুন বসতি ইউনিট নির্মাণের প্রস্তাব নিয়ে বৈঠকে বসেছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, গত বছরের নভেম্বর থেকে প্রায় প্রতি সপ্তাহেই বসতি প্রকল্পগুলো দ্রুত অনুমোদনের মাধ্যমে পশ্চিম তীরে দখলদারিত্ব আরও স্বাভাবিক করা হচ্ছে।
ইসরায়েলের ডানপন্থী রাজনীতিকেরা পশ্চিম তীর সংযুক্ত করার প্রচেষ্টা আরও স্পষ্ট করছেন। বিতর্কিত E1 প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পূর্ব জেরুজালেমকে একটি বড় অবৈধ বসতির সঙ্গে যুক্ত করবে—যা দুই রাষ্ট্র সমাধানের পথ কার্যত বন্ধ করে দেবে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র প্রকাশ্যে ইসরায়েলের সংযুক্তিকরণ পরিকল্পনার বিরোধিতা করলেও পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি হামলা থামাতে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি। গাজায় যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ প্রচার করলেও পশ্চিম তীরের সহিংসতার বিষয়ে ওয়াশিংটনের অবস্থানকে অনেকে দ্বিমুখী বলে মনে করছেন।
পশ্চিম তীরের এই বাড়তি সহিংসতা অঞ্চলের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকেই আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা