এখন সময় ডেস্ক • প্রকাশিত: ২৮ নভেম্বার ২০২৫, ০৬:১৩ এ এম • অনলাইন সংস্করণ

নিরাপত্তা যাচাইয়ের জন্য শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীদের গ্রিন কার্ড স্থগিত করলো যুক্তরাষ্ট্র

নিরাপত্তা যাচাইয়ের জন্য শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীদের গ্রিন কার্ড স্থগিত করলো যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) ২০২১ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য শরণার্থী ও আশ্রয়প্রাপ্তদের গ্রিন কার্ড (স্থায়ী বাসিন্দা মর্যাদা) প্রক্রিয়াকরণ স্থগিত করেছে। সরকারি প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জানা যায়, ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস) এই স্থগিতাদেশ জারি করেছে, যার ফলে আই-৪৫০ (Adjustment of Status) আবেদনকারীরা অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।

এই সিদ্ধান্তের কারণে তারা প্রভাবিত হবেন, যারা ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রে শরণার্থী (refugee) বা আশ্রয়প্রাপ্ত (asylee) হিসেবে সুরক্ষিত মর্যাদা লাভ করেছেন এবং এখন স্থায়ী বাসিন্দা (Green Card) হওয়ার জন্য আবেদন করেছেন বা আবেদন করার যোগ্য। সাধারণত, শরণার্থী বা আশ্রয়প্রাপ্ত ব্যক্তিরা যুক্তরাষ্ট্রে এক বছর বসবাসের পরই গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করার যোগ্যতা অর্জন করেন।

ডিএইচএস/ইউএসসিআইএস পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই স্থগিতাদেশের প্রধান কারণ হলো অতিরিক্ত স্ক্রিনিং ও যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা। কর্তৃপক্ষ মনে করে, নিরাপত্তা, জাতীয় সুরক্ষা এবং সম্ভাব্য প্রতারণা বা জননিরাপত্তা ঝুঁকি মূল্যায়নের জন্য এই পদক্ষেপ প্রয়োজন। তাদের যুক্তি, পূর্বে শরণার্থীদের প্রবেশের সময়কার যাচাই প্রক্রিয়া "খুব ঢিলেঢালা" বা অসম্পূর্ণ ছিল, যা এখন নতুন করে ভেরিফাই করা প্রয়োজন।

প্রথম দিকে এই বিরতিকে "অস্থায়ী বিরতি" বলা হলেও, প্রশাসনিকভাবে কখন এটি শুরু হবে বা কখন পুরোপুরি তুলে নেওয়া হবে, তা পরিষ্কারভাবে জানানো হয়নি। তবে, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে যে, যারা ২০২১ সালের ২০ জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ২০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন, তাদের আসল শরণার্থী মর্যাদা এবং গ্রিন কার্ড আবেদন পুনরায় রিভিউ করা হবে। এর মধ্যে পুনরায় সাক্ষাৎকার গ্রহণ (re-interview) এবং তদন্ত (re-investigation) অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

উল্লেখ্য, ‘শরণার্থী’ হলেন তারা, যারা বিদেশে থাকাকালীন নির্যাতন বা ভয়-ভীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের অনুমোদন পান। অন্যদিকে, ‘আশ্রয়প্রাপ্ত’ ব্যক্তিরা হলেন যারা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর বিচারিক বা প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আশ্রয় পান। উভয় ক্ষেত্রেই, তারা নিজ দেশে ফিরে গেলে বিপদ বা নির্যাতনের ভয় পেয়ে থাকেন।

এদিকে, অনেক আইনজীবী, অভিবাসী-কর্মী এবং মানবাধিকার সংস্থা এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, শরণার্থী এবং আশ্রয়প্রাপ্ত ব্যক্তিরা ইতোমধ্যেই বায়োগ্রাফিক এবং নিরাপত্তা যাচাই প্রক্রিয়া পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছেন। তাই পুনরায় এত বড় আকারের রিভিউ চালু করাকে অবিচার হিসেবে দেখা হচ্ছে। তাদের যুক্তি, যারা নিয়ম মেনেছেন, তাদের অকারণে অনিশ্চয়তায় রাখা মানবিক এবং আইনি অধিকারের প্রতি অপমান।