নিউ ইয়র্কে স্বাস্থ্যসেবা ব্যয় বৃদ্ধির আশঙ্কায় রিপাবলিকানদের কঠোর সমালোচনা করেছেন গভর্নর ক্যাথি হোকল। ফেডারেল প্রিমিয়াম ট্যাক্স ক্রেডিট বা স্বাস্থ্য বীমায় কেন্দ্রীয় কর ছাড়ের মেয়াদ গত ৩১ ডিসেম্বর শেষ হয়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে তিনি এই প্রতিক্রিয়া জানান। গভর্নরের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, এই পদক্ষেপের ফলে ১ জানুয়ারি থেকে নিউ ইয়র্কের প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষের স্বাস্থ্য বীমার খরচ অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাবে।
যারা স্টেটের স্বাস্থ্য বীমা মার্কেটপ্লেস থেকে ভর্তুকি পেতেন, তাদের বীমার কিস্তি বা প্রিমিয়াম গড়ে ৩৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। এর ফলে ব্যক্তিগত পর্যায়ে বার্ষিক গড়ে ১,৪০০ ডলার এবং দম্পতিদের ক্ষেত্রে ৩,০০০ ডলার পর্যন্ত বাড়তি খরচ গুনতে হবে।
এক বিবৃতিতে গভর্নর হোকল বলেন, নতুন বছরের শুরুতে ওয়াশিংটন রিপাবলিকানদের কারণে হাজার হাজার পরিশ্রমী নিউ ইয়র্কার আকাশচুম্বী স্বাস্থ্যসেবা ব্যয়ের মুখে পড়েছেন। তাদের এই নিষ্ক্রিয়তা ব্যর্থ নেতৃত্বের একটি লজ্জাজনক বহিঃপ্রকাশ। নিউ ইয়র্কের রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্যদের উচিত সাধারণ মানুষের স্বার্থে এই কর ছাড়ের মেয়াদ বাড়ানো।
গভর্নরের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত আঞ্চলিক তথ্যে দেখা গেছে, দম্পতিদের ক্ষেত্রে মাসিক গড় খরচ বিভিন্ন এলাকায় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে:
ক্যাপিটাল রিজিয়ন: ২৩১ ডলার (৩৩%)
নিউ ইয়র্ক সিটি: ২১১ ডলার (৩৮%)
মিড-হাডসন: ২০৬ ডলার (৩১%)
লং আইল্যান্ড: ২১৯ ডলার (৩২%)
ওয়েস্টার্ন নিউ ইয়র্ক: ২৬৭ ডলার (৩৮%)
সেন্ট্রাল নিউ ইয়র্ক: ২৫৬ ডলার (৪৩%)
ফিঙ্গার লেকস: ২৪৮ ডলার (৪২%)
মোহাক ভ্যালি: ২৭০ ডলার (৪৯%)
সাউদার্ন টিয়ার: ২৬৫ ডলার (৪৮%)
নর্থ কান্ট্রি: ২৫৩ ডলার (৪৪%)
পুরো স্টেট জুড়ে দম্পতিদের গড় মাসিক খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে ২২৮ ডলার বা ৩৮ শতাংশ। গভর্নরের কার্যালয় সতর্ক করে জানিয়েছে, ফেডারেল তহবিল হ্রাসের ফলে নিউ ইয়র্ক একাই এই বিপুল পরিমাণ অর্থের যোগান দিতে পারবে না। এইচআর-১ (H.R.1) আইনের প্রভাবে মেডিকেড এবং এসেনশিয়াল প্ল্যান গ্রহণকারীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।1 ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৬ সালের জুলাই নাগাদ প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার মানুষ তাদের বর্তমান স্বাস্থ্য বীমা সুবিধা হারাতে পারেন।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় গভর্নর হোকল নিউ ইয়র্ক স্টেট অফ হেলথ-কে নির্দেশ দিয়েছেন যাতে তারা এসেনশিয়াল প্ল্যানটিকে পুনরায় বেসিক হেলথ প্রোগ্রামে ফিরিয়ে নিতে ফেডারেল কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করে। এর মাধ্যমে অন্তত ১৩ লাখ নিম্নআয়ের মানুষের বীমা সুবিধা বজায় রাখার চেষ্টা করা হবে।