এখন সময় ডেস্ক • প্রকাশিত: ১০ নভেম্বার ২০২৫, ০৬:৪৭ পিএম • অনলাইন সংস্করণ

নিউ ইয়র্কে সম্ভাব্য ফেডারেল পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে স্থানীয় নেতারা

নিউ ইয়র্কে সম্ভাব্য ফেডারেল পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে স্থানীয় নেতারা

নিউ ইয়র্কে স্থানীয় ও রাজনৈতিক নেতারা নীরবে প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যদি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর হুমকি বাস্তবে পরিণত করেন—অর্থাৎ শহরে ফেডারেল সেনা ও অভিবাসন কর্মকর্তাদের মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেন। মেয়র নির্বাচনে জোহরান মামদানীর জয়ের পর থেকে এই প্রস্তুতি আরও ত্বরান্বিত হয়েছে। ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট হিসেবে নির্বাচিত মামদানীকে ট্রাম্প তাঁর নতুন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে তুলে ধরেছেন।

শহরজুড়ে এখন প্রশাসন, ব্যবসায়ী মহল এবং গভর্নর ক্যাথি হোকলের কার্যালয় একযোগে সম্ভাব্য পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। এসব প্রস্তুতির মধ্যে রয়েছে আইনি পদক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা, দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে সক্ষম দল গঠন এবং লস অ্যাঞ্জেলেস, শিকাগো ও ওয়াশিংটন ডিসির কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ।

হোকলের উপদেষ্টা জ্যাকি ব্রে এই পরিকল্পনার নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি অন্য শহরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিউ ইয়র্কের জন্য উপযুক্ত প্রতিক্রিয়া কৌশল তৈরি করছেন। নিউ ইয়র্কের রিয়েল এস্টেট ও ব্যবসায়ী নেতারাও হোকলের আহ্বানে আগামী সপ্তাহে পুনরায় বৈঠকে বসবেন।

ট্রাম্প প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট নিউ ইয়র্কের নিরাপত্তা ও সাফল্য নিয়ে উদ্বিগ্ন, তবে তাঁর মতে মেয়র মামদানীর প্রশাসনের প্রতি আস্থা রাখা কঠিন। কর্মকর্তারা ইতিমধ্যেই শহরের ফেডারেল তহবিল কমানোর উপায় ও সম্ভাব্য অভিবাসন অভিযান কেমন হতে পারে তা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন।

আগস্টে লস অ্যাঞ্জেলেসে ফেডারেল এজেন্টদের অভিযান শেষে ট্রাম্প প্রকাশ্যে বলেছিলেন, তিনি শিকাগো বা নিউ ইয়র্কেও একই ধরনের অভিযান চালানোর কথা ভাবছেন। শেষ পর্যন্ত শিকাগোতেই অভিযান চালানো হয়, যেখানে ব্যাপক জনবিক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। সেই ঘটনার পর নিউ ইয়র্কের প্রশাসন শিকাগোর অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিতে উদ্যোগী হয়েছে।

জ্যাকি ব্রে জানিয়েছেন, ফেডারেল সংস্থাগুলো যদি নিউ ইয়র্কে সেনা বা অভিবাসন এজেন্ট মোতায়েন করে, তবে স্থানীয় ও স্টেট আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সমন্বয়হীন অবস্থার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। তাঁর ভাষায়, “ক্যালিফোর্নিয়া ও ইলিনয়—দুই জায়গার অভিজ্ঞতা থেকে আমরা জেনেছি, ফেডারেল সংস্থাগুলো সাধারণত স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।”

ব্যবসায়ী মহলের মধ্যে ধারণা রয়েছে, নিউ ইয়র্কের বড় রিয়েল এস্টেট ও বাণিজ্যিক নেতারা তাঁদের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে সংঘাত এড়াতে ভূমিকা রাখতে পারেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন হাওয়ার্ড লুটনিক, স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার।

মেয়র এরিক অ্যাডামস সতর্ক করে বলেছেন, শহরে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনের দরকার নেই, এতে “ভুল বার্তা” যাবে। পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশও বলেছেন, “একজন আজীবন নিউ ইয়র্কবাসী হিসেবে আমি রাস্তায় সেনা মোতায়েনের চিন্তায় ঘৃণা অনুভব করি।”

এদিকে নিউ ইয়র্ক সিটি প্রশাসন অভিবাসীদের আইনি সহায়তা নিশ্চিত করতে ১২৩ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করেছে, যাতে আটক হওয়া ব্যক্তিরা দ্রুত আইনজীবীর সাহায্য পান।

গত মাসে কানাল স্ট্রিট এলাকায় এক অভিযানে ৫০ জনের বেশি ফেডারেল এজেন্ট অংশ নেয় এবং নয়জনকে আটক করে। ওই অভিযান আরও বড় হওয়ার কথা থাকলেও সংবাদমাধ্যমে খবর ফাঁস হয়ে যাওয়ায় তা শেষ মুহূর্তে সীমিত করা হয়।

এর পর থেকেই শহরের বিভিন্ন অভিবাসীপ্রধান এলাকায়, যেমন সানসেট পার্ক, করোনা ও জ্যাকসন হাইটসে, স্থানীয় সংগঠনগুলো সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তারা অভিবাসীদের সহায়তায় পারস্পরিক সহায়তা নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে, যাতে যারা ভয় বা আতঙ্কে বাইরে যেতে না পারেন, তাদের বাড়িতে খাবার ও প্রয়োজনীয় জিনিস পৌঁছে দেওয়া যায়।

মেক দ্য রোড নিউ ইয়র্ক সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক হোসে লোপেজ বলেছেন, “এই সময়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—নিজের প্রতিবেশীর সঙ্গে একসঙ্গে থাকা, কারণ একে অপরের চোখ-কান হয়ে থাকলেই আমরা নিরাপদ থাকতে পারব।”

অক্টোবরে ১০০-র বেশি ইউনিয়ন, কমিউনিটি গ্রুপ ও বামপন্থী সংগঠন ‘হ্যান্ডস অফ নিউ ইয়র্ক সিটি’ নামের একটি জোট গঠন করেছে, যারা সম্ভাব্য ফেডারেল হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সংগঠিত করছে। তাদের মতে, “এমন অভিযানগুলো অপ্রয়োজনীয়, অনাকাঙ্ক্ষিত, অনেক সময় বেআইনি, আর মূলত রাজনৈতিক মনোযোগ ঘোরানোর কৌশল।”

নিউ ইয়র্কের নেতারা এখন তাই প্রস্তুত—যদি ফেডারেল হস্তক্ষেপ ঘটে, তবে আইনগত, প্রশাসনিক ও সামাজিক সব স্তরে একযোগে তার মোকাবিলা করতে হবে।

সূত্রঃ নিউইয়র্ক টাইমস