নিউ ইয়র্ক সিটিতে চলতি বছরের শুরুতে যখন যানজট শুল্ক বা কনজেশন প্রাইসিং চালু করা হয়, তখন সমালোচকরা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। দিনে নয় ডলারের এই ফি নিম্ন আয়ের মানুষের ক্ষতি করবে, ছোট ব্যবসা ধ্বংস করবে এবং অপরাধ ও ময়লা-আবর্জনা বাড়িয়ে দেবে বলে আশঙ্কা করা হয়েছিল। তবে বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এই শুল্ক আরোপের ফলে উল্টো লোয়ার ম্যানহাটনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ক্রেতাদের আনাগোনা বেড়েছে।
নিউ ইয়র্ক সিটি ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, কনজেশন প্রাইসিং চালুর ফলে লোয়ার ম্যানহাটনে ব্যক্তিগত গাড়ির প্রবেশ ১১ শতাংশ কমেছে, যার অর্থ প্রায় ১ কোটি গাড়ি ওই এলাকায় প্রবেশ করেনি। তবে গাড়ির সংখ্যা কমলেও পথচারীদের সংখ্যা বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। গত বছরের তুলনায় ওই এলাকায় কর্মীদের যাতায়াত ১.৩ শতাংশ এবং পর্যটক বা দর্শনার্থীদের আগমন ২.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
ব্যবসায়িক এলাকার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, কনজেশন প্রাইসিং জোনের ভেতরে থাকা ব্যবসাগুলোতে ক্রেতাদের পদচারণা ৪.৮ শতাংশ বেড়েছে। অথচ এই জোনের বাইরের ব্যবসায়িক এলাকায় এই বৃদ্ধির হার ছিল মাত্র ১ শতাংশ। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য পথচারী ক্রেতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ গাড়িতে থাকা ব্যক্তির চেয়ে হেঁটে যাওয়া মানুষের দোকানে প্রবেশের সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে।
যদিও প্রতিটি দোকানের আয়ের সঠিক খতিয়ান এখনো মেলেনি, তবে সার্বিক পরিসংখ্যান বলছে এই নীতি নিউ ইয়র্কের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে এনেছে। এটি একই সাথে কর্মী, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ যাত্রীদের উপকারে আসছে। নয় ডলারের এই শুল্ক যানজট কমিয়ে শহরকে আরও গতিশীল করে তুলেছে, অথচ সমালোচকদের করা নেতিবাচক ভবিষ্যৎবাণীগুলোর কোনোটিই সত্যি প্রমাণিত হয়নি।