নিউ ইয়র্ক সিটির আবাসন সংকট নিরসনে মেয়র এরিক অ্যাডামসের ঘোষিত লক্ষ্যমাত্রা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। ২০২২ সালে আগামী এক দশকের মধ্যে ৫ লাখ নতুন ঘর তৈরির যে উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল, বর্তমান ধীরগতির কারণে তা অর্জন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। রিয়েল এস্টেট বোর্ড অফ নিউ ইয়র্ক বা রেবনি-র মঙ্গলবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এই উদ্বেগের চিত্র ফুটে উঠেছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, নিউ ইয়র্ক সিটিতে একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবন নির্মাণ শেষ করতে গড়ে ৩.৪ বছর সময় লাগছে। ম্যানহাটনের মতো এলাকায় এই সময়সীমা চার বছর ছাড়িয়ে যাচ্ছে। ২০২৪ সালের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ৬৬ হাজার ইউনিট যুক্ত হলেও লক্ষ্যমাত্রা পূরণের জন্য প্রতি প্রান্তিকে যে পরিমাণ ঘর নির্মাণ প্রয়োজন, বাস্তব উৎপাদন তার চেয়ে অনেক পিছিয়ে আছে। বর্তমানে প্রতি তিন মাসে গড়ে ৯,৪৫০টি ইউনিট নির্মিত হচ্ছে, যেখানে লক্ষ্য ছোঁয়ার জন্য প্রয়োজন ১৩,১০০টিরও বেশি।
আবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাত্রাতিরিক্ত আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, কঠোর জোনিং আইন, উচ্চ সুদের হার এবং করোনা মহামারীর পরবর্তী অর্থনৈতিক প্রভাব এই ধীরগতির প্রধান কারণ। বর্তমানে শহরে অ্যাপার্টমেন্ট খালি থাকার হার মাত্র ১.৪ শতাংশ, যা গত ৫০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। ফলে সাধারণ মানুষের জন্য মাথা গোঁজার ঠাঁই পাওয়া দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে এবং পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ঘর ভাড়া।
মেয়র এরিক অ্যাডামস ও গভর্নর ক্যাথি হোকালসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা আবাসন বৃদ্ধির বিষয়ে একমত হলেও সমাধানের পথ নিয়ে মতভেদ রয়েছে। নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানী আগামী ১০ বছরে দুই লাখ সরকারি ভর্তুকিপ্রাপ্ত ঘর তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি ভবন নির্মাণের দীর্ঘ অপেক্ষার সময় কমিয়ে আনার ওপর জোর দিয়েছেন। অন্যদিকে আবাসন খাতের লবিং গ্রুপগুলো জোনিং সীমাবদ্ধতা দূর করার দাবি জানিয়ে আসছে।
রেবনি-র প্রতিবেদনে একটি বিশেষ সমস্যার কথা উল্লেখ করা হয়েছে যা প্রি-ডেভেলপমেন্ট নামে পরিচিত। অনেক ডেভেলপার নকশা চূড়ান্ত করলেও প্রয়োজনীয় অনুমতি না পাওয়ায় কাজ শুরু করতে পারছেন না। অক্টোবর মাস পর্যন্ত এমন প্রায় ৪৭,১০০টি ইউনিট ঝুলে ছিল, যার মধ্যে ৩০ শতাংশেরও বেশি পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে আটকে আছে। অনেক ক্ষেত্রে বৈদ্যুতিক বা প্লাম্বিং ব্যবস্থার জটিল সরকারি নিয়মকানুন পূরণ করতেই তিন বছর পার হয়ে যায়।
অবশ্য আশার আলোও দেখছেন সংশ্লিষ্ট অনেকে। গত বছর সিটির জোনিং আইনে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে এবং পুরনো অফিস ভবনগুলোকে আবাসিক ভবনে রূপান্তরের প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে। এছাড়া রাজ্য সরকার নতুন ট্যাক্স সুবিধা চালু করেছে যা ভবিষ্যতে ভবন নির্মাণের গতি বাড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।