এখন সময় ডেস্ক • প্রকাশিত: ২২ ডিসেম্বার ২০২৫, ১০:১০ পিএম • অনলাইন সংস্করণ

নিউ ইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলিতে মামদানীর আনুষ্ঠানিক সমর্থনে প্রার্থী ডায়ানা মোরেনো

নিউ ইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলিতে মামদানীর আনুষ্ঠানিক সমর্থনে প্রার্থী ডায়ানা মোরেনো

নিউ ইয়র্ক সিটির পরবর্তী মেয়র হিসেবে নির্বাচিত জোহরান মামদানী স্টেট অ্যাসেম্বলিতে তার শূন্য হতে যাওয়া আসনে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ও বন্ধু ডায়ানা মোরেনোকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন জানিয়েছেন। গত শনিবার কুইন্সের অ্যাস্টোরিয়ার অ্যাথেন্স স্কয়ার পার্কে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে মামদানী এই ঘোষণা দেন। আগামী ১ জানুয়ারি মামদানী সিটি হলের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন এবং একই সাথে তার বর্তমান ৩৬তম স্টেট অ্যাসেম্বলি আসনটি শূন্য হবে। ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকা বা ডিএসএ-এর একজন একনিষ্ঠ সক্রিয় সদস্য ডায়ানা মোরেনোকে এই প্রগতিশীল অঞ্চলে মামদানীর উত্তরাধিকারী হিসেবে অত্যন্ত শক্তিশালী প্রার্থী মনে করা হচ্ছে।

সমর্থন ঘোষণার সময় জোহরান মামদানী আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, এই আসনের বাসিন্দাদের প্রতিনিধিত্ব করা ছিল তার জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সম্মান। ডায়ানা মোরেনো সম্পর্কে তিনি মন্তব্য করেন যে, মোরেনোর মধ্যে এমন এক তেজ ও দূরদর্শিতা রয়েছে যা কেবল বর্তমান অর্জনগুলোকে রক্ষা করবে না, বরং সাধারণ মানুষের মর্যাদা ও ন্যায়ের লড়াইকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে। ইকুয়েডরে জন্ম নেওয়া ডায়ানা মোরেনো এর আগে কুইন্স ডিএসএ-এর কমিউনিকেশনস ডিরেক্টর ও কো-চেয়ার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি তার প্রচারণায় সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করা, অভিবাসী প্রতিবেশীদের আইনি সুরক্ষা প্রদান এবং কর্মজীবী পরিবারের জন্য বিনামূল্যে শিশু পরিচর্যার মতো মৌলিক দাবিগুলোকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।

তবে স্টেট অ্যাসেম্বলির এই আসনটির দখল নেওয়া মোরেনোর জন্য খুব সহজ হবে না। তার বিপরীতে আরও তিনজন প্রভাবশালী নারী প্রার্থী ময়দানে রয়েছেন। তাদের মধ্যে অন্যতম প্রথম প্রজন্মের বাংলাদেশি আমেরিকান মেহেরুননিসা মেরি জোবাইদা, যিনি নিজেকে তৃণমূলের মাটি ও মানুষের প্রার্থী হিসেবে উপস্থাপন করছেন। জোবাইদা দারিদ্র্যের সব রূপকে অপরাধমুক্ত করার মতো সাহসী অবস্থান নিয়েছেন এবং বাংলাদেশি আমেরিকান অ্যাডভোকেসি গ্রুপের সমর্থন পেয়েছেন। এ ছাড়া সাবেক গুগল কর্মী ও নাগরিক অধিকারকর্মী রানা আবদেলহামিদ এবং নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটির ট্যান্ডন স্কুল অফ ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সহকারী ডিন শিবানি ধীরও এই প্রতিযোগিতায় কোমর বেঁধে নেমেছেন। শিবানি মূলত সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় ও সাশ্রয়ী জীবনযাপনের ইস্যুতে গুরুত্ব দিচ্ছেন।

আগামী ১ জানুয়ারি জোহরান মামদানী আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করার পর নিউ ইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকল এই শূন্য আসনে উপ-নির্বাচন ঘোষণা করবেন। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি এই বিশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। হাতে সময় খুব কম থাকায় প্রার্থীরা ইতিমধ্যেই ভোটারদের দ্বারে দ্বারে পৌঁছাতে শুরু করেছেন। ডায়ানা মোরেনোর দাবি, মামদানীর মেয়র নির্বাচনের প্রচারণাই তাদের জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক প্রশিক্ষণ ছিল এবং তারা গত দুই সপ্তাহে প্রায় তিন হাজার বাড়িতে জনসংযোগ সম্পন্ন করেছেন। অ্যাস্টোরিয়ার এই এলাকাটি নিউ ইয়র্কের প্রগতিশীল রাজনীতির প্রধান দুর্গ হিসেবে পরিচিত। ফলে এই উপ-নির্বাচনের ফলাফল কেবল একটি শূন্য আসন পূরণ নয়, বরং স্টেট রাজনীতিতে প্রগতিশীল শক্তির ভবিষ্যৎ প্রভাব ও জনসমর্থন যাচাইয়ের একটি বড় পরীক্ষাক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।