কুইন্সের ফ্লাশিংয়ে নিউইয়র্ক-প্রেসবাইটেরিয়ান হাসপাতালে ১২ নভেম্বর অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে ভাষাগত সহায়তাকে সব হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলক করার দাবিতে জোরালো আহ্বান জানানো হয়। ওই সমাবেশে অ্যাসেম্বলিমেম্বার নিলি রোজিক, স্টেট সেনেটর জন লিউ, সিটি কাউন্সিল মেম্বার লিন্ডা লিসহ বিভিন্ন কমিউনিটি সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তারা গভর্নর ক্যাথি হোকুলকে বছরের শেষের আগেই হাসপাতাল ভাষা অ্যাক্সেস বিল A387/S6288 আইনে পরিণত করার অনুরোধ জানান।
বিলটির মূল উদ্দেশ্য হলো ইংরেজিতে দক্ষ নন এমন রোগীদের জন্য দোভাষী ও অনুবাদ সেবাকে বাধ্যতামূলক করা, যাতে চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য, ওষুধ, রিপোর্ট, অপারেশন ও চিকিৎসা-সম্মতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো রোগীরা বুঝতে পারেন। রোজিক বলেন, ভাষাগত সহায়তা মানেই স্বাস্থ্যসেবা—এটি মর্যাদা, ন্যায্যতা ও নিরাপত্তার প্রশ্ন।
কুইন্সকে বিশ্বের অন্যতম ভাষিক বৈচিত্র্যময় এলাকা হিসেবে ধরা হয়। এখানে ৬৩ লাখেরও বেশি মানুষ ইংরেজিতে সীমিত দক্ষ, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ২৫.৫ শতাংশ। গবেষণা বলছে, ভাষাজনিত বাধার কারণে চিকিৎসাজনিত ভুল কিংবা ভুল বোঝাবুঝির ঝুঁকি দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পায়।
অতীতের বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায়, হাসপাতালগুলোতে ভাষা সেবা অনুপস্থিত থাকলে রোগীর ক্ষতির সম্ভাবনা বাড়ে। ২০০৭ সালের এক গবেষণায় দেখা যায়, ইংরেজিতে সীমিত দক্ষ রোগীদের মধ্যে ৪৯ শতাংশ চিকিৎসাজনিত বিরূপ ঘটনার শিকার হন, যেখানে দক্ষ ইংরেজিভাষী রোগীদের ক্ষেত্রে হার ৩০ শতাংশ।
যদিও নিউইয়র্ক-প্রেসবাইটেরিয়ান কুইন্স শাখায় যথেষ্ট ভাষা সহায়তা রয়েছে বলে জানানো হয়, তবে রাজ্যের অনেক হাসপাতাল এখনো যথাযথভাবে ভাষা সেবা দিতে ব্যর্থ। একটি সাম্প্রতিক সমীক্ষায় ৫১৪টি হাসপাতালের প্রায় ৩০ শতাংশ অনলাইন পোর্টাল শুধু ইংরেজিতে পাওয়া গেছে।
ভাষা সেবার অভাবে অনেক ক্ষেত্রে শিশুরা পরিবারের একমাত্র দোভাষী হয়ে ওঠে, যা তাদের ওপর মানসিক চাপ ও গোপনীয়তার সমস্যা তৈরি করে। বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা জানান, শিশুদেরকে চিকিৎসা সংক্রান্ত জটিল ও অনেক সময় ট্রমাজনিত তথ্য অনুবাদ করতে বাধ্য করা তাদের জন্য ক্ষতিকর।
এশিয়ান আমেরিকানদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিরা জানান, অনেক অভিবাসী পরিবার হাসপাতালের ভাষা সেবা না থাকায় বিপাকে পড়ে। কেউ কেউ এমন পরিস্থিতিতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। দক্ষিণ এশিয়ান কাউন্সিল ফর সোশ্যাল সার্ভিসেসের স্বাস্থ্যসেবা পরিচালক রেহান মাহমুদ এক রোগীর উদাহরণ দেন, যিনি ভাষাগত অসুবিধা ও সহযোগিতার অভাবে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছিলেন। সৌভাগ্যক্রমে তিনি সঠিক সহায়তা পেয়ে চিকিৎসা পেয়েছিলেন।
স্টেট সেনেটর জন লিউ ও অ্যাসেম্বলিমেম্বার রোজিক দুজনেই অভিবাসী পরিবারের সন্তান হিসেবে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে বলেন, ইংরেজিতে সীমিত দক্ষ রোগীদের জন্য ভাষাগত সহায়তা শুধু একটি সেবা নয়, এটি জরুরি প্রয়োজন।
সমাবেশে উপস্থিত সবাই একমত হন যে বিলটি দ্রুত আইনে পরিণত হলে রাজ্যের লাখো মানুষ চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় আরও নিরাপদ ও আত্মবিশ্বাসী বোধ করবেন।
তথ্যসূত্র: QNC