এখন সময় ডেস্ক • প্রকাশিত: ০৮ নভেম্বার ২০২৫, ০১:২৮ পিএম • অনলাইন সংস্করণ

নিউইয়র্কের রাজনীতি উত্তপ্ত: স্টেফানিক ও হোকল মুখোমুখি নির্বাচনী লড়াইয়ে

নিউইয়র্কের রাজনীতি উত্তপ্ত: স্টেফানিক ও হোকল মুখোমুখি নির্বাচনী লড়াইয়ে

নিউইয়র্কের গভর্নর পদে প্রার্থীতা ঘোষণা করেছেন রিপাবলিকান কংগ্রেসওম্যান এলিস স্টেফানিক। শুক্রবার সকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে জানান, ২০২৬ সালের নির্বাচনে তিনি ডেমোক্র্যাট গভর্নর ক্যাথি হোকল-এর বিরুদ্ধে লড়বেন।

স্টেফানিক তার প্রচারণার শুরুতেই হোকলকে “আমেরিকার সবচেয়ে ব্যর্থ গভর্নর” আখ্যা দিয়ে বলেন, “তার নেতৃত্বে নিউইয়র্ক এখন দেশের সবচেয়ে ব্যয়বহুল স্টেট। কর, জ্বালানি, ভাড়া, ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য আকাশচুম্বী। যখন নিউইয়র্কবাসী নেতৃত্ব খুঁজছিল, তখন তিনি নতজানু হয়েছিলেন করবৃদ্ধি ও পুলিশবিরোধী নীতির কাছে, যা আমাদের স্টেটের পরিবারগুলোর জন্য বিপর্যয় ডেকে এনেছে।”

স্টেফানিক আরও বলেন, “আমি নিউইয়র্ককে সবার জন্য নিরাপদ ও সাশ্রয়ী করতে গভর্নর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি। ডেমোক্র্যাট, রিপাবলিকান, ও স্বতন্ত্র ভোটার—সবাই মিলে স্টেটটিকে বাঁচাতে ঐক্যবদ্ধ হবে।”

প্রতিদ্বন্দ্বী গভর্নর ক্যাথি হোকল পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় স্টেফানিককে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের “কংগ্রেসে নম্বর ওয়ান অনুসারী” বলে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, “কংগ্রেসে নিউইয়র্কবাসীর স্বার্থবিরোধী ভূমিকা নেওয়াই যথেষ্ট ছিল না—এবার তিনি ট্রাম্পের বিশৃঙ্খলা ও ব্যয়বৃদ্ধি স্টেট রাজনীতিতে আনতে চাইছেন। আমি নিউইয়র্কবাসীর জন্য খরচ কমাচ্ছি, মধ্যবিত্তের কর হ্রাস করছি এবং সেই মানুষগুলোর জন্য লড়ছি, যাদের স্টেফানিক ত্যাগ করেছেন।”

দুজনেরই নিজ নিজ দলের প্রাথমিক নির্বাচনে জয়ী হতে হবে, এরপর তারা মুখোমুখি হবেন মূল নির্বাচনে। সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত সিয়েনা কলেজের এক জরিপে দেখা যায়, সম্ভাব্য মুখোমুখি লড়াইয়ে হোকল ৫২ শতাংশ বনাম স্টেফানিকের ২৭ শতাংশ ভোটে এগিয়ে আছেন।

২০১৪ সালে মাত্র ৩০ বছর বয়সে কংগ্রেস সদস্য নির্বাচিত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ নারী প্রতিনিধি হন এলিস স্টেফানিক। নিউইয়র্কের উত্তরাঞ্চলের ২১তম কংগ্রেশনাল জেলা থেকে তিনি টানা পাঁচবার নির্বাচিত হয়েছেন।

২০২৪ সালের নভেম্বরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাকে জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনীত করেছিলেন। জানুয়ারিতে সেনেটের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটিতে তার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়, তবে দুই মাস পর ট্রাম্প নিজেই মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন। তিনি বলেন, “আমাদের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ এজেন্ডা এগিয়ে নিতে কংগ্রেসে প্রতিটি রিপাবলিকান আসন ধরে রাখা জরুরি।”

এরপর মে মাসে ট্রাম্প একাধিক রিপাবলিকান প্রার্থীর প্রতি সমর্থন জানিয়ে ইঙ্গিত দেন যে, তিনি স্টেফানিকের জন্যই দলীয় মাঠ পরিষ্কার রাখতে চান। তিনি কংগ্রেসম্যান মাইক ললার ও নাসাউ কাউন্টির নির্বাহী ব্রুস ব্ল্যাকম্যানের পুনর্নির্বাচনে সমর্থন জানান—যারা আগে গভর্নর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। ললার পরে ঘোষণা দেন যে তিনি ২০২৬ সালে পুনরায় কংগ্রেসে লড়বেন, তবে ব্ল্যাকম্যান এখনো গভর্নর নির্বাচনে অংশ নেওয়া নিয়ে চিন্তাভাবনা করছেন।

অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট শিবিরে হোকলকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন তারই লেফটেন্যান্ট গভর্নর অ্যান্তোনিও ডেলগাডো, ফলে নিউইয়র্কের আগামী গভর্নর নির্বাচন হতে যাচ্ছে এক উত্তপ্ত রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা।