এখন সময় ডেস্ক • প্রকাশিত: ১৯ ডিসেম্বার ২০২৫, ০৩:৫১ এ এম • অনলাইন সংস্করণ

নাগরিকত্ব বাতিলের মিশনে ট্রাম্প প্রশাসন: মাসে ২০০ মামলার লক্ষ্যমাত্রা

নাগরিকত্ব বাতিলের মিশনে ট্রাম্প প্রশাসন: মাসে ২০০ মামলার লক্ষ্যমাত্রা

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস দিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন প্রাকৃতিক উপায়ে নাগরিকত্ব পাওয়া ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব বাতিলের প্রক্রিয়া জোরদার করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের হাতে আসা একটি অভ্যন্তরীণ নির্দেশিকা অনুযায়ী, ২০২৬ অর্থবছর থেকে প্রতি মাসে ১০০ থেকে ২০০টি নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক এই পদক্ষেপে দেখা যাচ্ছে যে, ২০১৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত যেখানে মাত্র ১২০টির মতো মামলা দায়ের হয়েছিল, সেখানে এখন মাসে ২০০টি মামলা করার লক্ষ্যমাত্রা একটি বিশাল উল্লম্ফন। মার্কিন আইন অনুযায়ী, নাগরিকত্ব পাওয়ার আবেদনের সময় বড় ধরনের কোনো তথ্য গোপন বা জালিয়াতি করলে নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া সম্ভব। তবে বর্তমান প্রশাসনের এই ব্যাপক তৎপরতা সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে ভীতির সঞ্চার করেছে।

ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস) এর মুখপাত্র ম্যাথিউ জে ট্র্যাগারসার জানিয়েছেন, যারা নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়ায় মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন বা জালিয়াতি করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনাই তাদের উদ্দেশ্য। অন্যদিকে, বিচার বিভাগ গ্যাং সদস্য, আর্থিক প্রতারক এবং মাদক চক্রের সাথে জড়িত অপরাধীদের নাগরিকত্ব বাতিলের বিষয়ে অগ্রাধিকার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

তবে এই গণ-প্রক্রিয়ার সমালোচনা করেছেন সাবেক অনেক কর্মকর্তা। সাবেক ইউএসসিআইএস কর্মকর্তা সারাহ পিয়ার্স মনে করেন, এ ধরনের মাসিক কোটা নির্ধারণ নাগরিকত্ব বাতিলের মতো একটি জটিল এবং বিরল প্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক হাতিয়ারে পরিণত করার ঝুঁকি তৈরি করে। এতে সাধারণ নাগরিকরা সামান্য ভুলের কারণেও হেনস্তার শিকার হতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মানবাধিকার কর্মীরা।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ২ কোটি ৬০ লাখ মানুষ প্রাকৃতিক উপায়ে পাওয়া নাগরিকত্বের অধীনে বসবাস করছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আদালতের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বাতিলের প্রক্রিয়াটি বেশ কঠিন এবং দীর্ঘমেয়াদী। সুপ্রিম কোর্টের পূর্ববর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী, সরকারকে কেবল জালিয়াতি প্রমাণ করলেই চলবে না, বরং প্রমাণ করতে হবে যে সেই জালিয়াতি নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্যতায় সরাসরি প্রভাব ফেলেছিল। এত সব আইনি বাধা সত্ত্বেও প্রশাসনের এই নতুন নির্দেশনা অভিবাসন ব্যবস্থায় এক অস্থির পরিস্থিতি তৈরি করেছে।