এখন সময় ডেস্ক • প্রকাশিত: ০৯ নভেম্বার ২০২৫, ১২:০৫ এ এম • অনলাইন সংস্করণ

নতুন নির্দেশনায় যে্সব রোগ থাকলে বাতিল হতে পারে মার্কিন ভিসার আবেদন

নতুন নির্দেশনায় যে্সব রোগ থাকলে বাতিল হতে পারে মার্কিন ভিসার আবেদন

যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে ইচ্ছুক ভিসাপ্রার্থীদের মধ্যে যাদের ডায়াবেটিস, স্থূলতা বা অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সমস্যা আছে, তাদের আবেদন বাতিল হতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন সম্প্রতি এমন একটি নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে।

গত বৃহস্পতিবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে প্রকাশিত এ নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য সমস্যাগুলো ভিসা প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। যুক্তরাষ্ট্রে যেসব আবেদনকারীকে “পাবলিক চার্জ” বা অর্থনৈতিকভাবে রাষ্ট্রের ওপর বোঝা হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে, তাদের ভিসা অনুমোদন না দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

ওয়াশিংটনভিত্তিক কেএফএফ হেলথ নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্দেশনাটি যুক্তরাষ্ট্রের সব দূতাবাস ও কনস্যুলেটে নোটিশ আকারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে ভিসা প্রক্রিয়ায় আবেদনকারীর টিকাদান ইতিহাস, সংক্রামক রোগ, মানসিক অবস্থা ও শারীরিক সক্ষমতার মতো বিষয়গুলোই বিবেচনায় নেওয়া হতো। নতুন নীতিমালায় এসবের পাশাপাশি হৃদরোগ, ক্যানসার, শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা, ডায়াবেটিস, মেটাবলিক ও স্নায়বিক রোগকেও মূল্যায়নের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, এসব রোগের চিকিৎসা ব্যয় অনেক বেশি হতে পারে—কখনও কয়েক লাখ ডলার পর্যন্ত। তাই আবেদনকারী চিকিৎসা ব্যয় বহনে আর্থিকভাবে সক্ষম কি না, তা যাচাই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ভিসা কর্মকর্তাদের।

আইনি সহায়তা সংস্থা ক্যাথলিক লিগ্যাল ইমিগ্রেশন নেটওয়ার্কের সিনিয়র অ্যাটর্নি চার্লস হুইলার বলেন, এই নীতিমালা সব ধরনের ভিসার জন্য প্রযোজ্য হলেও এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়বে স্থায়ী বসবাসের (পারমানেন্ট রেসিডেন্সি) আবেদনকারীদের ওপর। তিনি বলেন, “ভিসা কর্মকর্তাদের চিকিৎসা-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া উদ্বেগজনক, কারণ তারা চিকিৎসক নন এবং প্রায়ই ব্যক্তিগত ধারণা বা পক্ষপাতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।”

পররাষ্ট্র দপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, আবেদনকারী যদি আজীবন চিকিৎসা ব্যয় নিজেই বহন করতে সক্ষম না হন, তবে তার ভিসা বাতিল হতে পারে। পাশাপাশি আবেদনকারীর পরিবারের সদস্যদের স্বাস্থ্যগত অবস্থাও বিবেচনায় নিতে হবে—বিশেষ করে যদি সন্তান বা প্রবীণ অভিভাবক দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্ত হন বা বিশেষ যত্নের প্রয়োজন হয়।

জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিবাসন আইনজীবী সোফিয়া জেনোভেসের মতে, “এই নির্দেশিকা ভিসা কর্মকর্তাদের উৎসাহিত করছে আবেদনকারীদের চিকিৎসা ইতিহাস ও কর্মক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে তাদের সম্ভাব্য স্বাস্থ্য ব্যয় অনুমান করতে, যাতে বোঝা যায় আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে রাষ্ট্রীয় সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হবেন কি না।”

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নতুন এই নীতিমালা যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন প্রক্রিয়ায় আরও জটিলতা আনবে এবং বিশেষত নিম্নআয়ের ও স্বাস্থ্য-ঝুঁকিতে থাকা আবেদনকারীদের জন্য স্থায়ী বসবাসের সুযোগ সীমিত করে দেবে।