যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে সরকার পুনরায় সক্রিয় হওয়া এবং খাদ্য কুপন সুবিধা ফিরে পাওয়ায় স্বস্তি মিললেও, অনেকেই জানতে পারছেন—তাদের খাদ্য সহায়তা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
৪৩ দিনের দীর্ঘতম শাটডাউনের মধ্যেই কৃষিমন্ত্রী ব্রুক রোলিন্স ইউএসডিএ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন রিপাবলিকানদের নতুন কর ও ব্যয়বিধির সঙ্গে স্টেটগুলোকে দ্রুত সামঞ্জস্য করাতে। এই আইনের ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই লক্ষ লক্ষ মানুষ দেশের বৃহত্তম অ্যান্টি-হাঙ্গার প্রোগ্রাম থেকে বাদ পড়বেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নতুন আইনে যুক্ত হওয়া বিভিন্ন বিধান সাম্প্রতিক দশকে সামাজিক নিরাপত্তা নেটওয়ার্কে সবচেয়ে বড় কাটছাঁট হিসেবে দেখা হচ্ছে। এরই মধ্যে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো স্থবির মজুরি, বাড়তি ভাড়া, স্বাস্থ্যসেবা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয়ের চাপে আরও সংকটে পড়ছে—যা এই মাসের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের হারানোর একটি কারণ হিসেবে দেখা হয়েছে।
স্ন্যাপ কর্মসূচি বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ছয় ডলারের মতো সাহায্য দেয় ৪২ মিলিয়ন মানুষের জন্য, যাদের প্রায় চল্লিশ শতাংশই শিশু। নতুন আইনে অভিভাবক, প্রবীণ এবং সক্ষম ব্যক্তিদের কঠোর কর্মঘণ্টা পূরণের শর্ত মানতে হবে। পাশাপাশি স্টেটগুলোকে ভবিষ্যতে স্ন্যাপ সুবিধার খরচের অংশ বহন করতে হবে, যা আরও কাটছাঁটের কারণ হতে পারে বলে জানিয়েছে কংগ্রেশনাল বাজেট অফিস। বহু বৈধ অভিবাসীও এই কর্মসূচি থেকে বাদ পড়বেন।
এই পরিবর্তনগুলো শাটডাউনের সময়ই স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল বলে মন্তব্য করেন ডটি রোজেনবাউম, যিনি বামঘেঁষা বাজেট অ্যান্ড পলিসি প্রায়োরিটিজ সেন্টারের একজন কর্মকর্তা। তার ভাষায়, নতুন আইনটি স্ন্যাপ ইতিহাসে সবচেয়ে বড় কাটছাঁট এবং এর প্রভাব গভীর হবে।
বেশ কয়েকটি স্টেট ইতোমধ্যেই গ্রাহকদের জানাতে শুরু করেছে যে তারা কঠোর কাজের শর্তের আওতায় পড়বেন। তিন মাসের মধ্যে শর্ত না মানলে সুবিধা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে। নিউইয়র্ক ও ক্যালিফোর্নিয়ার মতো কিছু স্টেটে উচ্চ বেকারত্বের এলাকায় শর্ত কিছুটা শিথিল করা যাবে, তবে বহু বৈধ অভিবাসী, যেমন শরণার্থী—তাদের সুবিধা অবিলম্বে বন্ধ হওয়ার নোটিশ পাচ্ছেন।
মানবিক সহায়তা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন আইন বিশেষ করে শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য অত্যন্ত কঠোর। HIAS সংস্থার হিসাব অনুযায়ী প্রায় ২.৫ লাখ শরণার্থী ও বিশেষ ভিসাধারী এই সহায়তা হারাতে পারেন।
রোলিন্স ইঙ্গিত দিয়েছেন যে বর্তমান স্ন্যাপ সুবিধাভোগীদেরও পুনরায় আবেদন করতে হতে পারে, যদিও তারা নিয়মিত আয় ও যোগ্যতার প্রমাণ জমা দেন। নতুন প্রক্রিয়া আরও জটিলতা তৈরি করতে পারে।
ইউএসডিএ অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে কাজের শর্ত কঠোর করা নিয়ে নতুন নির্দেশনা পাঠিয়েছে, তবে অনেক স্টেট এখনো তা ব্যাখ্যা করতে হিমশিম খাচ্ছে। ক্যালিফোর্নিয়ার সোশ্যাল সার্ভিস বিভাগের পরিচালক জেনিফার ট্রোইয়া জানান, তারা ধীরে ধীরে নির্দেশনা অনুসরণে এগোচ্ছেন।
এদিকে, আগামী কয়েক বছরে লক্ষ লক্ষ নিম্ন আয়ের পরিবার মেডিকেইড সুবিধাও হারাতে পারে, কারণ ওই কর্মসূচিতেও নতুন শর্ত যোগ হচ্ছে। রিপাবলিকানদের কর-ব্যয়ের আইনে বহু বৈধ অভিবাসী অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্টের ভর্তুকির যোগ্যতা হারাবেন। পাশাপাশি প্রশাসনের নতুন নীতি বহু অভিবাসীকে সরকারি সহায়তা নিতে নিরুৎসাহিত করবে।
এমন পরিস্থিতিতে খাদ্য ব্যাংকগুলোতে চাপ বেড়েছে। শাটডাউনের সময় স্ন্যাপ সুবিধা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশজুড়ে খাদ্য বিতরণ নেটওয়ার্কে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। ফিডিং আমেরিকার তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় খাদ্য কেনার পরিমাণ ৩২৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।
নিউইয়র্কের দাতব্য সংস্থা রিথিংক ফুড জানায়, তারা শাটডাউনের সময় সাপ্তাহিক খাবার বিতরণ ৪০–৫০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১২০ হাজার করতে বাধ্য হয়েছিলেন।
স্ন্যাপ সুবিধা হারানোর আশঙ্কায় অনেক শরণার্থী সহায়তা সংগঠন জরুরি খাদ্য বিতরণ শুরু করেছে। ওয়াশিংটনে হোমস নট বর্ডার্স সংস্থার পরিচালক লরা ওসুরি জানান, তাদের সংস্থার গুদাম ও সরবরাহব্যবস্থা এখন খাদ্য নিরাপত্তায় সাহায্য দিচ্ছে।
ফিডিং আমেরিকা জানায়, স্ন্যাপ যেটুকু খাবার সরবরাহ করে তার তুলনায় খাদ্য ব্যাংকগুলো মাত্র এক-নবমাংশ দিতে পারে। ফলে বেসরকারি সহায়তা পুরো সংকট সামলাতে পারবে না বলে সংস্থাগুলো উদ্বিগ্ন।
ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার ফেসিং হাঙ্গার ফুড ব্যাংকের প্রধান সিন্ডি কার্টহার্ট বলেন, তারা এমন সংকট বাজেটে ধরেননি এবং ভবিষ্যতে আরও সংকট আসবে বলে ধারণা করছেন। তার মতে, একসময় মানুষও সহায়তার সীমায় পৌঁছে যাবে—এবং তখন প্রশ্ন উঠবে, আর কতটা করা সম্ভব?