ঢাকা অফিস • প্রকাশিত: ২৫ ডিসেম্বার ২০২৫, ০৫:৪২ এ এম • অনলাইন সংস্করণ

তুর্কি প্রযুক্তিতে নির্মিত শক্তিশালী রণতরি পিএনএস খাইবার পেল পাকিস্তান

তুর্কি প্রযুক্তিতে নির্মিত শক্তিশালী রণতরি পিএনএস খাইবার পেল পাকিস্তান

তুরস্কের সাথে প্রযুক্তি হস্তান্তর চুক্তির আওতায় নির্মিত দ্বিতীয় মিলজেম শ্রেণির শক্তিশালী রণতরি আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝে নিয়েছে পাকিস্তান নৌবাহিনী। ইস্তাম্বুল নেভাল শিপইয়ার্ডে আয়োজিত এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে পিএনএস খাইবার নামের এই জাহাজটি কমিশন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল নাভিদ আশরাফ।

পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর জনসংযোগ শাখা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মিলজেম শ্রেণির এই জাহাজগুলো বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম উন্নত প্রযুক্তিসম্পন্ন জলযান। রণতরিগুলো সর্বাধুনিক কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম, আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র এবং উন্নত সেন্সর দ্বারা সজ্জিত। ২০১৮ সালে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী পাকিস্তানের জন্য মোট চারটি জাহাজ নির্মাণের কথা রয়েছে, যার মধ্যে দুটি তুরস্কে এবং বাকি দুটি পাকিস্তানে নির্মিত হচ্ছে। পিএনএস খাইবার কমিশন করার মাধ্যমে তুরস্কে জাহাজ নির্মাণের অংশটি সফলভাবে সম্পন্ন হলো।

প্রযুক্তিগত দিক থেকে এই জাহাজগুলো মূলত স্টিলথ ডিজাইনে তৈরি, যার ফলে রাডারে এগুলোকে সহজে শনাক্ত করা যায় না। প্রায় ৯৯ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ২,৪০০ টন ওজনের এই জাহাজগুলো একটানা ১৫ দিন গভীর সমুদ্রে অবস্থান করে শত্রু শিবিরের অগোচরে নজরদারি ও আক্রমণ পরিচালনায় সক্ষম। এটি একই সাথে আকাশ, সমুদ্রের উপরিভাগ এবং পানির নিচে যুদ্ধ করতে সক্ষম একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ প্ল্যাটফর্ম।

প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে পিএনএস খাইবার অত্যাধুনিক সারফেস-টু-সারফেস এবং সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল বহন করে। এতে আকাশপথের আক্রমণ ঠেকাতে ১৬টি উল্লম্ব লঞ্চিং সেল বা ভিএলএস যুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া সাবমেরিন শনাক্ত ও ধ্বংস করার জন্য রয়েছে উন্নত সোনার সিস্টেম এবং টর্পেডো লঞ্চিং টিউব। জাহাজের ৩ডি স্মার্ট-এস রাডার প্রায় ২৫০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে যেকোনো লক্ষ্যবস্তু নিখুঁতভাবে শনাক্ত করতে পারে।

জাহাজটিতে তুরস্কের তৈরি বিশেষ হ্যাভেলসান অ্যাডভেন্ট কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম ব্যবহার করা হয়েছে, যা যুদ্ধক্ষেত্রে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এতে একটি বড় হেলিপ্যাড ও হ্যাঙ্গার রয়েছে, যা ১০ টন ওজনের হেলিকপ্টার বহন করতে সক্ষম। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এই যৌথ সামরিক সহযোগিতা দক্ষিণ এশিয়ার সামুদ্রিক নিরাপত্তায় এক নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। বর্তমানে পাকিস্তানের নিজস্ব শিপইয়ার্ডে বাকি জাহাজগুলোর নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে।