এখন সময় ডেস্ক • প্রকাশিত: ০৩ ডিসেম্বার ২০২৫, ০৭:৩১ এ এম • অনলাইন সংস্করণ

ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপির সর্বকালের সর্বনিম্ন পতন

ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপির সর্বকালের সর্বনিম্ন পতন

ভারতের মুদ্রাবাজারে অস্থিরতা এখন তীব্র আকার ধারণ করেছে। ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপির মান আবারও সর্বকালের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।

সোমবার (১ ডিসেম্বর) রুপির দর রেকর্ড উচ্চতা অতিক্রম করে ৮৯.৭৩–এ দাঁড়ায়, যা মাত্র দুই সপ্তাহ আগেকার ৮৯.৪৯–এর রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে। চলতি বছরে এশিয়ার দুর্বলতম মুদ্রাগুলোর মধ্যে রুপির অবস্থান আরও নিচের দিকে নামছে।

অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত থাকা সত্ত্বেও এবং সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৮.২ শতাংশে পৌঁছালেও রুপির এই দুর্বলতা কাটছে না।

ব্যাংকারদের মতে, শক্তিশালী প্রবৃদ্ধিও রুপিকে স্থিতি দিতে পারেনি। কারণ হিসেবে তারা উল্লেখ করেছেন: যুক্তরাষ্ট্র–ভারত বাণিজ্য চুক্তিতে অগ্রগতির অভাব, আমদানিকারকদের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত হেজিং, এবং ব্যালেন্স অব পেমেন্টের (BoP) চাপ। এই কারণগুলো সম্মিলিতভাবে ডলারের বিপরীতে রুপির অবস্থানকে আরও দুর্বল করেছে।

নন–ডেলিভারেবল ফরোয়ার্ড মার্কেটেও (NDF) চাপ বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, পজিশনের মেয়াদ ঘনিয়ে আসার কারণে রুপির ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে, যার ফলস্বরূপ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোকে বাজার ব্যবধান কমাতে হস্তক্ষেপ করতে দেখা গেছে।

জেপি মর্গানের অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, বর্তমান সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে রুপির 'পরিমিত অবমূল্যায়ন' কেবল অনিবার্যই নয়, বরং কিছু ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয়ও। তাদের পূর্বাভাস, যুক্তরাষ্ট্র–ভারত বাণিজ্যচুক্তি অনিশ্চিত থাকলে রুপির ওপর চাপ আরও বাড়বে এবং মুদ্রার আরও দুর্বল হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।

একই সময়ে, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত ৫০ শতাংশ উচ্চ শুল্ক কমানো হতে পারে এমন আশা জাগলেও, কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে রুপির ওপর। এই বাড়তি শুল্কের কারণে রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, বিদেশি বিনিয়োগ কমেছে এবং শেয়ারবাজার থেকে বিনিয়োগকারীরা এরই মধ্যে ১৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি তুলে নিয়েছেন।

সামগ্রিকভাবে, রুপিকে টিকিয়ে রাখার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপই এখন বড় ভরসা। এর পাশাপাশি, অক্টোবর মাসে ভারতের পণ্য বাণিজ্য ঘাটতি সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠায় মুদ্রাবাজারের চাপ আরও তীব্র হয়েছে।