মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ৫ জানুয়ারি গভীর রাতে তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক অভাবনীয় কাণ্ড ঘটিয়েছেন। মধ্যরাতের সেই ঝোড়ো অবস্থানে তিনি মাত্র এক ঘণ্টার ব্যবধানে প্রায় ৮৯টি পোস্ট ও রিপোস্ট করেছেন। তার এই কর্মকাণ্ড রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এসব পোস্টের মাধ্যমে ট্রাম্প বিভিন্ন প্রশাসনিক আপডেট দেওয়ার পাশাপাশি তার কট্টর সমালোচকদেরও একহাত নিয়েছেন। বিশেষ করে মার্কিন সরকারকে চোর এবং মিথ্যাবাদী হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি একটি পোস্টে প্রশ্ন তোলেন যে, কেন নাগরিকরা একটি ভেঙে পড়া ও দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারকে কর দেবে। এছাড়া তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি এবং ভেনিজুয়েলার বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও একাধিক মন্তব্য করেছেন।
প্রেসিডেন্টের এই পোস্টগুলোর মধ্যে একটি ছিল প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ককে নিয়ে। সেখানে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, মাস্ক আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টিকে পূর্ণ সমর্থন ও তহবিল জোগান দিতে যাচ্ছেন। এর পাশাপাশি ট্রাম্প ভোটার আইডি আইন এবং মিনেসোটার প্রতিনিধি ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে আগে থেকে চলে আসা কিছু বিতর্কিত ও অপ্রমাণিত অভিযোগ পুনরায় শেয়ার করেছেন। ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে ওঠা সেসব অভিযোগের কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ না থাকলেও ট্রাম্প তাকে গ্রেপ্তারের দাবি সংবলিত পোস্টগুলো পুনরায় শেয়ার করেন।
ভেনিজুয়েলা প্রসঙ্গে ট্রাম্প দেশটিকে একটি মৃত রাষ্ট্র হিসেবে অভিহিত করে বলেন যে, সেখানে তেল কোম্পানিগুলোর বড় ধরনের বিনিয়োগ প্রয়োজন। অবকাঠামো পুনর্নির্মাণের মাধ্যমে দেশটিকে আবার সচল করার ওপর জোর দিয়ে তিনি জানান যে, মার্কিন তেল কোম্পানিগুলো সেখানে কাজ শুরু করতে প্রস্তুত। ট্রাম্পের মতে, ভেনিজুয়েলার সম্পদ এক সময় কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, যা মোটেও কাম্য নয়।
গভীর রাতে ট্রাম্পের এমন আচমকা ও বিশাল সংখ্যক পোস্ট করার বিষয়টি তার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশলেরই অংশ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার এই অতি সক্রিয়তা জনমতকে প্রভাবিত করার একটি চেষ্টা হতে পারে।