এখন সময় ডেস্ক • প্রকাশিত: ২৮ নভেম্বার ২০২৫, ০৬:০৯ এ এম • অনলাইন সংস্করণ

ট্রাম্প প্রশাসনের বড় পদক্ষেপ: এক ধাক্কায় কমল ১৫টি জীবনরক্ষাকারী ওষুধের দাম

ট্রাম্প প্রশাসনের বড় পদক্ষেপ: এক ধাক্কায় কমল ১৫টি জীবনরক্ষাকারী ওষুধের দাম

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন মঙ্গলবার রাতে মেডিকেয়ার কর্মসূচীর আওতাধীন ১৫টি বহুল ব্যবহৃত ওষুধের নতুন ও হ্রাসকৃত মূল্য তালিকা ঘোষণা করেছে। এই তালিকায় রয়েছে ক্যান্সার, ডায়াবেটিস, ইনহেলার এবং ওজন কমানোর জনপ্রিয় ওষুধ ওজেম্পিক ও উইগোভি। প্রশাসনের দাবি অনুযায়ী, নতুন নির্ধারিত এই মূল্যের ফলে গত বছরের ব্যয়ের তুলনায় সরকারের প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় হবে। মেডিকেয়ার ও মেডিকেয়ড সার্ভিসেস বা সিএমএস জানিয়েছে, ২০২৭ সালে যখন এই নতুন দাম কার্যকর হবে, তখন মেডিকেয়ার গ্রাহকদের পকেট থেকে খরচ হওয়া অর্থের পরিমাণ প্রায় ৬৮৫ মিলিয়ন ডলার কমে যাবে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে কোনো প্রকার ছাড় বা রিবেট ছাড়াই এই ১৫টি ওষুধের পেছনে মেডিকেয়ারের ব্যয় ছিল প্রায় সাড়ে ৪২ বিলিয়ন ডলার।

নতুন এই আলোচনার মাধ্যমে ওষুধগুলোর খুচরা মূল্য বা লিস্ট প্রাইস থেকে ৩৮ শতাংশ থেকে শুরু করে ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত দাম কমানো সম্ভব হয়েছে। সিএমএস অ্যাডমিনিস্ট্রেটর মেহমেত ওজ এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, একই প্রক্রিয়া ব্যবহার করে বাইডেন প্রশাসনের তুলনায় তারা অনেক বেশি সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছেন এবং করদাতা ও বয়োজ্যেষ্ঠ নাগরিকদের জন্য উল্লেখযোগ্যভাবে ভালো ফলাফল অর্জন করেছেন। যদিও ওষুধের দাম কমানোর এই কর্মসূচীটি মূলত বাইডেন প্রশাসনের ইনফ্লেশন রিডাকশন অ্যাক্ট বা মুদ্রাস্ফীতি হ্রাস আইনের অংশ, তবুও বর্তমান স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা তাদের সাফল্যকে আগের প্রশাসনের চেয়ে শ্রেয় বলে দাবি করছেন। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজে এই বিষয়ে কোনো সরাসরি সংবাদ সম্মেলন করেননি বরং ছুটির সপ্তাহে একটি প্রেস রিলিজের মাধ্যমে ঘোষণাটি দেওয়া হয়।

ওষুধ শিল্পের প্রতিনিধিরা অবশ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন। ফার্মাসিউটিক্যাল রিসার্চ অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারার্স অব আমেরিকার একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, সরকারের এই মূল্য নির্ধারণ নীতি ত্রুটিপূর্ণ এবং এটি ভবিষ্যতে বায়োফার্মাসিউটিক্যাল গবেষণা থেকে বিপুল অর্থ সরিয়ে নিয়ে নতুন চিকিৎসার উদ্ভাবনকে ব্যাহত করবে। তবে রোগী অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে। প্যাশেন্টস ফর অ্যাফোর্ডেবল ড্রাগস-এর নির্বাহী পরিচালক মেরিথ বেসি একে রোগীদের জন্য একটি বড় বিজয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং জানিয়েছেন যে আমেরিকানরা এই কর্মসূচীর সম্প্রসারণকে ব্যাপকভাবে সমর্থন করে।

ঘোষিত নতুন তালিকায় ওষুধের দামে বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। ৩০ দিনের সরবরাহের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই তালিকায় দেখা যায়, টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও ওজন কমানোর ওষুধ ওজেম্পিক, রাইবেলসা ও উইগোভির দাম ৯৫৯ ডলার থেকে কমিয়ে ২৭৪ ডলারে নামিয়ে আনা হয়েছে। অ্যাজমা বা হাঁপানির ইনহেলার ট্রেলজি এলিপ্টার দাম ৬৫৪ ডলার থেকে কমে ১৭৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। প্রোস্টেট ক্যান্সারের ওষুধ এক্সটান্ডির দাম ১৩,৪৮০ ডলার থেকে কমিয়ে ৭,০০৪ ডলার এবং ব্রেস্ট ক্যান্সারের ওষুধ ইব্রান্সের দাম ১৫,৭৪১ ডলার থেকে কমিয়ে ৭,৮৭১ ডলার করা হয়েছে। এ ছাড়া কোষ্ঠকাঠিন্যের ওষুধ লিনজেস ৫৩৯ ডলার থেকে কমে ১৩৬ ডলার এবং ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ বা সিওপিডির ইনহেলার ব্রেও এলিপ্টার দাম ৩৯৭ ডলার থেকে কমিয়ে মাত্র ৬৭ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। হান্টিংটন রোগের ওষুধ অস্টেডোর দামও ৬,৬২৩ ডলার থেকে কমিয়ে ৪,০৯৩ ডলার করা হয়েছে।