অভিবাসন ইস্যুতে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে অসহযোগিতার জেরে স্টেটগুলোর নিরাপত্তা তহবিল কমিয়ে দেওয়ার যে প্রচেষ্টা ট্রাম্প প্রশাসন চালিয়েছিল, তা আটকে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের একজন ফেডারেল বিচারক। সোমবার ডিস্ট্রিক্ট জাজ মেরি ম্যাকএলরয় এক রায়ে সরকারের এই সিদ্ধান্তকে বেআইনি ও স্বেচ্ছাচারী হিসেবে অভিহিত করে পূর্বের বরাদ্দ ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
চলতি বছরের শুরুর দিকে কানেকটিকাট, ম্যাসাচুসেটস, নিউইয়র্ক ও ওয়াশিংটনসহ ১২টি স্টেটের অ্যাটর্নি জেনারেলরা প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেছিলেন। তাদের অভিযোগ ছিল, অভিবাসন নীতিতে কেন্দ্রীয় সরকারকে সহায়তা না করায় শাস্তিস্বরূপ তাদের নিরাপত্তা অনুদান কয়েকশ মিলিয়ন ডলার কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি এবং ফেমা প্রায় ২৩৩ মিলিয়ন ডলারের তহবিল কর্তন করেছিল, যা মূলত পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বরাদ্দ ছিল।
৪৮ পৃষ্ঠার দীর্ঘ রায়ে বিচারক মেরি ম্যাকএলরয় উল্লেখ করেন যে, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা কর্মসূচির মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতের অর্থ রাজনৈতিক কারণে কমিয়ে দেওয়া সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। তিনি বলেন, কোনো যৌক্তিক গাণিতিক সূত্র ছাড়াই নির্দিষ্ট কিছু স্টেটের বরাদ্দ একতরফাভাবে হ্রাস করা হয়েছে, যা প্রশাসনের ক্ষমতার অপব্যবহার ছাড়া আর কিছুই নয়। বিশেষ করে সম্প্রতি ব্রাউন ইউনিভার্সিটিতে বন্দুকধারীর হামলায় হতাহতের ঘটনার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই তহবিলের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।
ট্রাম্প কর্তৃক নিযুক্ত হওয়া সত্ত্বেও এই বিচারক প্রশাসনের কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার মতো পবিত্র দায়িত্ব যাদের ওপর অর্পিত, তাদের এমন খামখেয়ালি আচরণ অনভিপ্রেত। এই রায়ের ফলে তথাকথিত স্যাঙ্কচুয়ারি সিটি বা অভিবাসন-বান্ধব অঞ্চলগুলোতে জরুরি ত্রাণ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার অর্থ প্রবাহ পুনরায় স্বাভাবিক হবে।
অন্যদিকে, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি তৃষা ম্যাকলাফলিন এই রায়কে বিচার বিভাগীয় নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড হিসেবে বর্ণনা করে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তবে মামলার বাদী পক্ষ এই আদেশকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, এর মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বিপরীতে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলো।