যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জর্জিয়ার রিপাবলিকান কংগ্রেসওমেন মার্জোরি টেলার গ্রিনকে ঘিরে। একসময় তাঁর সবচেয়ে কঠোর সমর্থকদের একজন হিসেবে পরিচিত গ্রিনকে ট্রাম্প হঠাৎ সমর্থন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন। শুক্রবার তিনি নিজের সামাজিকমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দীর্ঘ পোস্টে গ্রিনকে সমালোচনার তীরে বিদ্ধ করেন এবং সমর্থন ও অনুমোদন (এন্ডোর্সমেন্ট) প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন।
ট্রাম্পের অভিযোগ—গ্রিন তাঁর বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছেন এবং নেতিবাচক সমালোচনা নিয়েই ব্যস্ত। তিনি পোস্টে গ্রিনকে “ওয়্যাকি” বলেও অভিহিত করেন। ট্রাম্পের এই অবস্থানকে তাদের বহু বছরের রাজনৈতিক সখ্যের সবচেয়ে বড় ভাঙন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে গ্রিন প্রকাশ্যে ট্রাম্পের কিছু নীতি ও অবস্থানের সমালোচনা করছিলেন। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক সংঘাতগুলোতে ট্রাম্পের অতিরিক্ত মনোযোগ এবং এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ইস্যুগুলো—যেমন জীবনযাত্রার ব্যয়, স্বাস্থ্যসেবার খরচ, ও নতুন প্রজন্মের অর্থনৈতিক সুযোগ—পাশে পড়ে যাচ্ছে বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
ট্রাম্পের আক্রমণের জবাবে গ্রিন জানান, তিনি “ট্রাম্পের উপাসনা বা সেবা” করেন না। তিনি এপস্টিন–সম্পর্কিত নথিপত্র প্রকাশের দাবিতেও অবস্থান বজায় রাখবেন বলে মন্তব্য করেন। তাঁর দাবি—ট্রাম্পকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে পরামর্শ দিয়েছেন যাতে এপস্টিন তদন্তে মনোযোগ বাড়িয়ে ডেমোক্র্যাটদের চাপের মুখে ফেলা যায়।
ট্রাম্প এসব অবস্থানকে ‘অবিশ্বস্ততা’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, গ্রিনের এই পরিবর্তন শুরু হয় তখনই, যখন তিনি তাকে রাজ্যব্যাপী কোনো নির্বাচনে না দাঁড়াতে পরামর্শ দেন এবং এরপর থেকেই গ্রিন তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ কমিয়ে দেন। ট্রাম্প আরও ইঙ্গিত দেন, জর্জিয়ার ওই আসনে গ্রিনের বিরুদ্ধে কেউ যোগ্য প্রার্থী হলে তিনি সেই প্রার্থীকে পূর্ণ সমর্থন দেবেন।
গ্রিনের সাম্প্রতিক গণমাধ্যম উপস্থিতি নিয়েও ট্রাম্প তীব্র মন্তব্য করেন। তাঁর ভাষায়, গ্রিন এখন এমনকি ‘দ্য ভিউ’ নামের টকশোতেও উপস্থিত হচ্ছেন, যেখানে “রিপাবলিকান-বিরোধী সঞ্চালকরা” নিয়মিত সমালোচনা করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি এখন পর্যন্ত ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের সবচেয়ে স্পষ্ট বিচ্ছিন্নতা।
গত কয়েক মাসে গ্রিন ধীরে ধীরে ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন “মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন” ও “আমেরিকা ফার্স্ট” আন্দোলন থেকে দূরত্ব তৈরি করেছেন। আন্তর্জাতিক নীতি, মানবিক সংকট এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক প্রশ্নে তিনি বেশ কয়েকবার ট্রাম্প এবং তাঁর দলীয় সহকর্মীদের সঙ্গে ভিন্নমত প্রকাশ করেছেন। এমনকি গাজায় মানবিক সংকটকে তিনি গণহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা প্রথম রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা।
এ ছাড়া, জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ার পর লক্ষ–লক্ষ আমেরিকান পরিবার যে সংকটে পড়েছে, সেটি মোকাবিলায় সুনির্দিষ্ট কোনো নীতি দ্রুত গ্রহণ না করায় তিনি রিপাবলিকান নেতৃত্বের সমালোচনা করেন। সবচেয়ে সাম্প্রতিকভাবে, জেফরি এপস্টিন–সম্পর্কিত বিচার বিভাগীয় পূর্ণাঙ্গ নথি প্রকাশের দাবিতে যে ডিজচার্জ পিটিশন দায়ের করা হয়, সেখানে গ্রিন ছিলেন মাত্র চারজন রিপাবলিকানের একজন—ডেমোক্র্যাটদের পুরো দলীয় সমর্থনের সঙ্গে।
গ্রিন এই নথি প্রকাশকে “নারী ভুক্তভোগীদের প্রতি ন্যায়বিচারের লড়াই” হিসেবে বর্ণনা করেন এবং ট্রাম্পের আপত্তিকে “গুরুতর ভুল” বলে মন্তব্য করেন।
ট্রাম্প ও গ্রিনের রাজনৈতিক যাত্রা দীর্ঘদিন একই পথে চললেও সাম্প্রতিক অবস্থান পরিবর্তন দুই রিপাবলিকান নেতার সম্পর্ককে নতুন সংকটে ফেলেছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি শুধু ব্যক্তিগত নয়—রিপাবলিকান পার্টির অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য ও পরবর্তী নির্বাচনী কৌশলের বড় একটি প্রতিচ্ছবি।