নিউইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচন ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে রাজনৈতিক উত্তাপ বেড়েছে। বুধবার গভর্নর ক্যাথি হকল প্রথমবারের মতো প্রার্থী জোহরান মামদানীর সঙ্গে একই মঞ্চে উপস্থিত হয়ে তাঁর প্রার্থিতা ও “সাশ্রয়ী জীবনযাত্রা” বিষয়ক প্রচারণাকে প্রকাশ্যে প্রশংসা করেন।
হকল বলেন, সাশ্রয়ী জীবনের প্রশ্ন এখন নিউইয়র্কবাসীর জীবনের কেন্দ্রবিন্দু, আর মামদানী সেই বাস্তব সমস্যাটিকেই রাজনীতির আলোচনায় নিয়ে এসেছেন। তিনি বলেন, “জোহরান মামদানী সাধারণ মানুষের দুঃসহ জীবনযাত্রার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে সামনে এনেছেন, এজন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানাই।”
তবে গভর্নরের এই উপস্থিতি ও মন্তব্যের পরই ওয়াশিংটন থেকে আসে নতুন রাজনৈতিক বার্তা। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় হুমকি দেন— যদি মামদানী নিউইয়র্কের মেয়র নির্বাচিত হন, তাহলে তাঁর প্রশাসন রাজ্যের ফেডারেল তহবিল বন্ধ করে দেবে। ট্রাম্প বলেন, কোনো “কমিউনিস্টধর্মী প্রার্থীকে” জনগণের করের অর্থ অপচয়ের সুযোগ দেওয়া হবে না। তাঁর ভাষায়, “এটা শত শত বিলিয়ন ডলারের বিষয়, আমরা এমন কাউকে ক্ষমতায় দেখতে চাই না, যে জনগণের অর্থ বাতাসে উড়িয়ে দেবে।”
প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাট ও কুইন্সের অ্যাসেম্বলি সদস্য মামদানী সাম্প্রতিক সপ্তাহ গুলোতে ব্যাপক জনসমর্থন পেয়েছেন। তরুণ ভোটার, কর্মজীবী মানুষ ও ভাড়াটিয়া অধিকারকর্মীদের মধ্যে তাঁর জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে। গভর্নর হকল প্রেসিডেন্টের হুমকিকে “রাজনৈতিক ভয় দেখানোর কৌশল” হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, যদিও তাঁদের মধ্যে নীতিগত কিছু পার্থক্য রয়েছে, তবু মামদানীর প্রচারণা নিউইয়র্কের রাজনীতিতে নতুন উদ্দীপনা এনে দিয়েছে।
হকলের ভাষায়, “জোহরান মানষুকে ভাবতে শিখিয়েছেন— কীভাবে আমরা নিউইয়র্ককে আরও উন্নত ও সবার জন্য বাসযোগ্য করে তুলতে পারি। এই শহরকে সবার নাগালের মধ্যে আনতে তাঁর প্রচেষ্টা আমার সমর্থন পায়।”
এদিকে সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রুকুমো ইঙ্গিত দিয়েছেন, হকল হয়তো রাজনৈতিকভাবে বাম ঘরানার (DSA) সঙ্গে আপস করছেন। তিনি বলেন, এখন প্রতিটি ডেমোক্র্যাটের সামনে প্রশ্ন— তারা কি DSA-এর সঙ্গে হাত মেলাবে, না কি তাদের বিরুদ্ধে লড়বে।
অন্যদিকে রিপাবলিকান প্রার্থী কার্টিস স্লিওয়া মনে করেন, বর্তমান প্রতিদ্বন্দ্বিতা আসলে মামদানী ও তাঁর মধ্যেই সীমাবদ্ধ। তিনি বলেন, “কুমো ব্যর্থ হয়েছেন, হকল বিভ্রান্ত। এখন আসল লড়াই মামদানী আর আমার মধ্যে।”
বুধবার রাতে ব্রুকলিনে এক নির্বাচনী সমাবেশে মামদানী বলেন, তাঁর লক্ষ্য এমন রাজনীতি গড়ে তোলা যেখানে ভোটারদের সামনে কেবল ‘কম খারাপ’ বিকল্প নয়, বরং বাস্তব পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে।
সমাবেশে উপস্থিত ভোটার টেরি উইজডম বলেন, “আমরা এমন প্রার্থী চাই, যিনি আমাদের বাস্তব জীবনের কথা বোঝেন— শুধু বক্তৃতায় নয়, কাজে।”
মূলধারার রাজনীতিবিদ মোহাম্মদ তুহিন এ প্রসঙ্গে বলেন, “ট্রাম্পের এই মন্তব্য শুধু নির্বাচনী কৌশল নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের সুস্থধারার রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারের এক প্রকার মানসিক চাপ প্রয়োগের কৌশল।
ফেডারেল তহবিলের মতো সংবেদনশীল ইস্যুকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য উদ্বেগজনক। ভোটাররা কাকে ভোট দেবেন তা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার। এ বিষয়ে হুমকি প্রদর্শন করে জনগণকে বিভ্রান্ত করা বৃথা অপচেষ্টা মাত্র!”