এখন সময় ডেস্ক • প্রকাশিত: ১১ নভেম্বার ২০২৫, ০৬:৫১ এ এম • অনলাইন সংস্করণ

ট্রাম্পের বিশাল ক্ষমা ঘোষণা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন ঝড়

ট্রাম্পের বিশাল ক্ষমা ঘোষণা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন ঝড়

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে ঘিরে তাঁর সঙ্গে জড়িত একাধিক সহযোগীকে বিস্তৃতভাবে ক্ষমা ঘোষণা করেছেন। তালিকায় রয়েছেন রুডি জুলিয়ানি, সিডনি পাওয়েল, বরিস এপস্টেইন, জন ইস্টম্যান, মার্ক মেডোজসহ ৭০ জনেরও বেশি ব্যক্তি—যাদের নাম সেই সময় বিকল্প ইলেক্টর তৈরি এবং ভোটজালিয়াতির অভিযোগ ছড়িয়ে নির্বাচনের ফল পাল্টানোর প্রচেষ্টায় জড়িত বলে উঠে আসে।

ক্ষমা ঘোষণায় ট্রাম্প দাবি করেন, এটি ২০২০ সালের নির্বাচনের পর আমেরিকান জনগণের ওপর আরোপিত অন্যায়ের অবসান ঘটায় এবং জাতীয় পুনর্মিলনের পথকে এগিয়ে নেয়। তবে এই ক্ষমার আইনি গুরুত্ব সীমিত, কারণ তালিকাভুক্ত কেউই ফেডারেল মামলায় অভিযুক্ত ছিলেন না। তাছাড়া, ট্রাম্পের ক্ষমা ঘোষণার ক্ষমতা স্টেট-স্তরের মামলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। ফলে জর্জিয়া, অ্যারিজোনা, মিশিগান ও নেভাডাসহ বিভিন্ন স্টেটে যে তদন্ত চলছিল, সে সবের ওপর এর কোনো প্রভাব নেই।

২০২৩ সালে জর্জিয়া স্টেটে ট্রাম্পসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে নির্বাচনের ফল বদলানোর অভিযোগ আনা হয়। ট্রাম্প ও তাঁর সহ-আসামিরা অভিযোগ অস্বীকার করেন। পরে এই মামলায় সিডনি পাওয়েল, জেনা এলিস, কেনেথ চেসেব্রো এবং স্কট হল দায় স্বীকার করে সাক্ষ্য দেওয়ার শর্তে প্লিয়া ডিল নেন। এদিকে মামলার জেলা অ্যাটর্নি ফানি উইলিস ব্যক্তিগত সম্পর্কজনিত অনিয়মের অভিযোগে পদচ্যুত হন, এবং নতুন করে একজন স্বাধীন প্রসিকিউটর নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়।

ক্ষমার ভাষায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে—এটি ট্রাম্পের নিজের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে চলমান আইনি প্রক্রিয়ার কোনো পরিবর্তন ঘটছে না।

ট্রাম্পের এই ঘোষণা আবারও রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়িয়েছে। সমর্থকরা এটিকে ‘ন্যায়বিচার পুনরুদ্ধারের পদক্ষেপ’ হিসেবে দেখছেন, আর সমালোচকদের মতে—এটি বিচারব্যবস্থাকে দুর্বল করার আরেকটি রাজনৈতিক কৌশল।