এখন সময় ডেস্ক • প্রকাশিত: ০২ নভেম্বার ২০২৫, ০৩:২৩ এ এম • অনলাইন সংস্করণ

ট্রাম্পের ফিলিবাস্টার বাতিল দাবিতে নতুন রাজনৈতিক অচলাবস্থা

ট্রাম্পের ফিলিবাস্টার বাতিল দাবিতে নতুন রাজনৈতিক অচলাবস্থা

এক সপ্তাহের বিদেশ সফর শেষে দেশে ফিরেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শাটডাউন সংকট নিয়ে সরাসরি মাঠে নেমেছেন। তিনি সেনেটে দীর্ঘদিনের ফিলিবাস্টার প্রথা বাতিল করে ফেডারেল প্রশাসন পুনরায় চালুর আহ্বান জানিয়েছেন। তবে রিপাবলিকান নেতারা দ্রুতই তাঁর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন, যা কংগ্রেসে নতুন উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে।

বর্তমানে সেনেটে রিপাবলিকানদের ৫৩ ও ডেমোক্র্যাটদের ৪৭ আসন রয়েছে। ডেমোক্র্যাটরা ফিলিবাস্টার নিয়ম ব্যবহার করে বাজেট আটকে রেখেছে এবং দাবি করছে—স্বাস্থ্যসেবা ভর্তুকি পুনরায় চালু না করলে তারা ভোটে অংশ নেবে না। ট্রাম্প এই নিয়মকে “ফেডারেল প্রশাসন বন্ধ রাখার হাতিয়ার” বলে অভিহিত করেছেন।

সেনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা জন থুন জানিয়েছেন, ফিলিবাস্টার সেনেটের ভারসাম্য রক্ষার একটি অপরিহার্য ঐতিহ্য, তাই এটি বাতিলের কোনো পরিকল্পনা নেই। রিপাবলিকান সিনেটর জন কার্টিস মন্তব্য করেছেন, “ফিলিবাস্টার আমাদের আপস করতে শেখায়। ক্ষমতা বদলায়, কিন্তু নীতি বদলানো উচিত নয়।”

এদিকে ট্রাম্পের ফিলিবাস্টার বিরোধী অবস্থানের মধ্যেও শাটডাউন অব্যাহত রয়েছে। সরকারি খাদ্য সহায়তা (SNAP) কর্মসূচি স্থগিত, বিমান বিলম্বিত, এবং সরকারি কর্মচারীরা বেতনবিহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। স্বাস্থ্যবিমার খরচও দ্রুত বাড়ছে।

কৃষিমন্ত্রী ব্রুক রোলিন্স জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত খাদ্য সহায়তা তহবিল মুক্ত করা সম্ভব নয়। শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের দুটি আদালত SNAP চালু রাখার নির্দেশ দিয়েছে, তবে সেটি বাস্তবায়নে কিছুটা সময় লাগবে।

ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফ্রিস বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিদেশ সফরে যত সময় দিচ্ছেন, শাটডাউন সমাধানে ততটা আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।”

বিশ্লেষকদের মতে, সেনেট ও হোয়াইট হাউসের এই অচলাবস্থা যদি দ্রুত না মেটে, তবে ২০১৯ সালের ৩৫ দিনের রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে বর্তমান শাটডাউন।