এখন সময় ডেস্ক • প্রকাশিত: ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০৮:২৩ এ এম • অনলাইন সংস্করণ

ট্রাম্পের এক বছরে সোয়া ৫ লাখ অভিবাসী বিতাড়িত

ট্রাম্পের এক বছরে সোয়া ৫ লাখ অভিবাসী বিতাড়িত

যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রথম এক বছরে প্রায় ৫ লাখ ৪০ হাজার অভিবাসীকে দেশটি থেকে বিতাড়িত করেছেন। নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক বিশেষ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই সময়ের মধ্যে দেশের অভ্যন্তর থেকে ২ লাখ ৩০ হাজার এবং সীমান্ত এলাকা থেকে আরও ২ লাখ ৭০ হাজার মানুষকে আটক করে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এছাড়া সরকারের বিশেষ অ্যাপ ব্যবহার করে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ নিজেদের উদ্যোগে দেশ ছেড়েছেন।

তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ অভিযানে অভিবাসী আটকের হার জো বাইডেন প্রশাসনের চার বছরের মোট সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে। যদিও দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশের হার বর্তমানে রেকর্ড পরিমাণ কমেছে, তবুও দেশের ভেতরে সাঁড়াশি অভিযানের কারণে বিতাড়ন প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের গতি এসেছে। অতীতে অভিবাসীদের জেলখানা থেকে শান্তভাবে হেফাজতে নেওয়া হলেও এখন রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি, এমনকি আদালত প্রাঙ্গণ থেকেও সরাসরি গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। বিশেষ করে নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া ও ইলিনয়ের মতো অঙ্গরাজ্যগুলোতে যেখানে স্থানীয় প্রশাসন আইসিই-কে সহযোগিতা করে না, সেখানে এই ধরনের প্রকাশ্য গ্রেপ্তারের সংখ্যা চার গুণ বেড়েছে।

আগে অপরাধ রেকর্ড থাকা ব্যক্তিদের বিতাড়নে গুরুত্ব দেওয়া হলেও বর্তমান প্রশাসনের অধীনে কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড নেই এমন সাধারণ মানুষের বিতাড়নের হার ছয় গুণের বেশি বেড়েছে। মূলত বাইডেন আমলের অস্থায়ী আইনি সুবিধা বা প্যারোল বাতিল করায় বিপুল সংখ্যক বৈধ প্রবেশকারী এখন অবৈধ হয়ে পড়েছেন। তাদের সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে হয় তারা নিজ ইচ্ছায় দেশ ছাড়বে, নয়তো তাদের জোরপূর্বক বের করে দেওয়া হবে।

সরকারি কর্মকর্তাদের দাবি অনুযায়ী প্রায় ২৫ লাখ মানুষ কড়াকড়ির কারণে দেশ ছেড়েছেন, যদিও জনতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞরা এই সংখ্যা নিয়ে দ্বিমত পোষণ করেছেন। তবে কংগ্রেসনাল বাজেট অফিসের মতে, গত এক বছরে নথিপত্রহীন অভিবাসীর সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজার কমেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই অভিবাসন বিরোধী পদক্ষেপ এবং গণ-বিতাড়ন কর্মসূচি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কমিউনিটিতে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।