এখন সময় ডেস্ক • প্রকাশিত: ২২ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪২ পিএম • অনলাইন সংস্করণ

ট্রাম্পের অনুমোদনে সৌদি-যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু চুক্তি

ট্রাম্পের অনুমোদনে সৌদি-যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু চুক্তি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি আরবের সঙ্গে একটি নতুন পরমাণু সহযোগিতা চুক্তির অনুমোদন দিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চুক্তিটি কার্যকর হলে আগামী ৩০ বছর ধরে সৌদি আরবের বেসামরিক পরমাণু কর্মসূচিতে প্রযুক্তি, উপকরণ ও কারিগরি সহায়তা দেবে যুক্তরাষ্ট্র। এর বিনিময়ে সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রকে কয়েক হাজার কোটি ডলার পরিশোধ করবে।

রয়টার্স জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে চুক্তির খসড়া মার্কিন কংগ্রেসে উপস্থাপন করা হবে। কংগ্রেসের দুই কক্ষ, হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস ও সিনেটের অনুমোদন পেলেই এটি কার্যকর হবে। চুক্তির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে পরমাণু সহযোগিতা সংক্রান্ত '১২৩ এগ্রিমেন্ট'-এর নথিও কংগ্রেসে পাঠানো হবে।

চুক্তি কার্যকর হলে সৌদি আরবের বেসামরিক পরমাণু খাতে মার্কিন কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ ও ব্যবসার সুযোগ তৈরি হবে। তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে চুক্তিতে কঠোর আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা শর্তের অনুপস্থিতি।

ট্রাম্প প্রশাসনের অনুমোদিত খসড়ায় আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত 'গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড' নীতি অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ফলে সৌদি আরব চাইলে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানির পুনঃপ্রক্রিয়াকরণের মতো সংবেদনশীল কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে।

এছাড়া চুক্তিতে 'অ্যাডিশনাল প্রটোকল' বা অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাও রাখা হয়নি। সাধারণত এই ব্যবস্থার আওতায় আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা যে কোনো সময় সংশ্লিষ্ট দেশের পরমাণু স্থাপনা পরিদর্শনের সুযোগ পায়। বেসামরিক পরমাণু কর্মসূচির ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত হয়।

পরিবর্তে চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রকল্পের নিরাপত্তা ও তদারকি ব্যবস্থা সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপাক্ষিকভাবে নির্ধারণ করবে। এর ফলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের বাইরে সৌদি আরবের ইউরেনিয়াম ক্রয় ও সমৃদ্ধকরণের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কঠোর নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক নজরদারি ছাড়া এ ধরনের অনুমোদন ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। কারণ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং প্লুটোনিয়াম পুনঃপ্রক্রিয়াকরণই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দুটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

এর আগে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান প্রকাশ্যে বলেছেন, আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করে, তাহলে সৌদি আরবও নিজস্ব পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে এগোবে।

বর্তমানে বিশ্বের অধিকাংশ দেশ তাদের বেসামরিক পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনার জন্য আন্তর্জাতিক তদারকির আওতায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আমদানি করে থাকে। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার বাইরে অভ্যন্তরীণভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সুযোগ পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।