এখন সময় ডেস্ক • প্রকাশিত: ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ০৩:৪২ এ এম • অনলাইন সংস্করণ

ট্রাম্পকে নোবেল পদক উপহার মাচাদোর: ভেনেজুয়েলার নেতৃত্বে কে

ট্রাম্পকে নোবেল পদক উপহার মাচাদোর: ভেনেজুয়েলার নেতৃত্বে কে

ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেত্রী মারিয়া করিনা মাচাদো বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করে তার নিজের জেতা নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদকটি উপহার হিসেবে তুলে দিয়েছেন। গত বছর গণতন্ত্রকামী আন্দোলনের জন্য এই সম্মাননা পাওয়া মাচাদো সম্ভবত নিকোলাস মাদুরো পরবর্তী ভেনেজুয়েলার নেতৃত্বে মার্কিন সমর্থন লাভের আশায় এই বিরল পদক্ষেপ নিয়েছেন। তবে উপহার গ্রহণের পর ট্রাম্প তার প্রশংসা করলেও রাজনৈতিক সমর্থনে কোনো পরিবর্তন আসেনি।

হোয়াইট হাউস থেকে প্রকাশিত একটি ছবিতে দেখা যায়, ট্রাম্পের পাশে দাঁড়িয়ে মাচাদো একটি স্বর্ণালি ফ্রেমে বাঁধানো মেডেল এবং উৎসর্গপত্র ধরে আছেন। যেখানে লেখা ছিল, ভেনেজুয়েলাকে মুক্ত করার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের জোরালো ভূমিকার জন্য দেশটির জনগণের পক্ষ থেকে এই কৃতজ্ঞতা। ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এই ঘটনাকে পারস্পরিক শ্রদ্ধার এক চমৎকার নিদর্শন হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে অসলোভিত্তিক নোবেল শান্তি কেন্দ্র সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, পদক মালিকানা পরিবর্তন করলেও নোবেল বিজয়ীর খেতাব কখনো হস্তান্তরযোগ্য নয়।

মাচাদোর এই পদক্ষেপ নরওয়ের রাজনীতিকদের মধ্যেও তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। ওসলোর সাবেক মেয়র রেমন্ড জোহানসেন এই ঘটনাকে অত্যন্ত বিব্রতকর ও ক্ষতিকর বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে নরওয়ের সোশ্যালিস্ট লেফট পার্টির নেতা কার্স্টি বার্গস্টো বিষয়টিকে অর্থহীন ও অদ্ভুত বলে মন্তব্য করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, শান্তি পুরস্কারের মতো একটি আন্তর্জাতিক সম্মাননাকে এভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা এর মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করতে পারে।

মাদুরো পরবর্তী ভেনেজুয়েলার নেতৃত্ব নিয়ে বর্তমানে এক জটিল পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যদিও এক সময় যুক্তরাষ্ট্র মাচাদো ও তার জোটের প্রার্থী এডমুন্ডো গঞ্জালেসকে সমর্থন দিয়েছিল, কিন্তু বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসন মাদুরো সরকারের সাবেক গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গেই কাজ করতে বেশি আগ্রহী। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট স্পষ্ট করেছেন যে, মাচাদো একজন সাহসী কণ্ঠস্বর হলেও তার জনসমর্থন নিয়ে ট্রাম্পের আগের নেতিবাচক ধারণার কোনো পরিবর্তন হয়নি।

মাচাদো ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, এই পদক তুলে দেওয়া ছিল একটি আবেগঘন মুহূর্ত এবং ট্রাম্প এই সম্মানের যোগ্য। তিনি বিশ্বাস করেন যে, সঠিক সময়ে তিনি ভেনেজুয়েলার প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হবেন। তবে রদ্রিগেজকে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্থিতিশীল ও বাস্তববাদী পছন্দ হিসেবে গুরুত্ব দেওয়ার কারণে মাচাদোর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন অনেকটাই অনিশ্চিত। শেষ পর্যন্ত কেবল ট্রাম্পের স্বাক্ষরযুক্ত একটি গিফট ব্যাগ ও ছবি নিয়েই তাকে ফিরতে হয়েছে।