ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন স্বাস্থ্য নীতির বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন একদল মার্কিন সরকারি চাকুরিজীবী। আগামী বৃহস্পতিবার থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই নীতিতে ফেডারেল স্বাস্থ্য বিমা কর্মসূচি থেকে লিঙ্গ পরিবর্তন সংক্রান্ত চিকিৎসার সুবিধা বাতিল করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের প্রতিবাদে হিউম্যান রাইটস ক্যাম্পেইন (এইচআরসি) আক্রান্ত কর্মীদের পক্ষে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছে।
গত আগস্টে অফিস অফ পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট ঘোষণা দেয় যে, ফেডারেল কর্মী ও ডাকবিভাগের কর্মীদের জন্য বরাদ্দ স্বাস্থ্য বিমায় অস্ত্রোপচার বা রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় লিঙ্গ পরিবর্তনের কোনো খরচ আর বহন করা হবে না। হিউম্যান রাইটস ক্যাম্পেইন ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট কেলি রবিনসন এক বিবৃতিতে বলেন, এই নীতির উদ্দেশ্য চিকিৎসা বা খরচ কমানো নয়, বরং ট্রান্সজেন্ডার কর্মীদের সরকারি কর্মক্ষেত্র থেকে বিতাড়িত করাই এর আসল লক্ষ্য। সমঅধিকার রক্ষা কমিশনের কাছে জমা দেওয়া অভিযোগে চারজন বর্তমান সরকারি কর্মী জানিয়েছেন, তাদের সন্তান বা পরিবারের সদস্যদের জন্য চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় হরমোন থেরাপি বা ব্লকার ব্যবহারের সুবিধা এই নীতির ফলে বন্ধ হয়ে যাবে।
ট্রাম্প প্রশাসন ইতিমধ্যে ট্রান্সজেন্ডারদের স্বাস্থ্যসেবা সীমিত করতে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্কদের লিঙ্গ পরিবর্তন সংক্রান্ত চিকিৎসার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র এই ধরনের চিকিৎসাকে চিকিৎসাশাস্ত্রে গুরুতর ভুল বা অপচিকিৎসা হিসেবে অভিহিত করেছেন। যদিও আমেরিকান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের মতো শীর্ষস্থানীয় সংগঠনগুলো এই নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে আসছে।
সম্প্রতি মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে একটি বিল পাস হয়েছে যেখানে অপ্রাপ্তবয়স্কদের লিঙ্গ পরিবর্তনের চিকিৎসার সাথে জড়িত চিকিৎসক বা সরবরাহকারীদের ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। রিপাবলিকান নেত্রী মার্জোরি টেইলর গ্রিন এই বিলটির পক্ষে জোরালো সওয়াল করেছেন এবং এটিকে ট্রাম্পের অন্যতম প্রধান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ হিসেবে দেখছেন। বিলটি প্রতিনিধি পরিষদে পাস হলেও ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত সিনেটে এটি অনুমোদিত হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। তবে ডেমোক্র্যাটদের সাথে কিছু বিষয়ে মতভেদের জেরে গ্রিন হঠাৎ করেই তার মেয়াদ শেষ হওয়ার এক বছর আগেই সংসদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।