এখন সময় ডেস্ক • প্রকাশিত: ১৭ ডিসেম্বার ২০২৫, ১১:৪৫ পিএম • অনলাইন সংস্করণ

টি-ডোম নিয়ে তাইওয়ান-ইসরায়েল সামরিক আঁতাত: বেইজিংয়ের কড়া হুঁশিয়ারি

টি-ডোম নিয়ে তাইওয়ান-ইসরায়েল সামরিক আঁতাত: বেইজিংয়ের কড়া হুঁশিয়ারি

ইসরায়েলি প্রযুক্তিতে তাইওয়ান নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা টি-ডোম গড়ে তুলছে এমন গোয়েন্দা তথ্যে বেইজিং এবং তেল আবিবের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ২০২৫ সালের শেষ দিকে চীনা নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, চীনের ক্রমবর্ধমান হুমকির মুখে ইসরায়েলের আয়রন ডোম ব্যবস্থার আদলে নিজেদের সুরক্ষাকবচ তৈরি করছে তাইপেই। এই প্রক্রিয়ায় ইসরায়েলের পক্ষ থেকে সরাসরি সামরিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা পাওয়ার বিষয়টি বেইজিংয়ের নজরে এসেছে।

চীন ও ইসরায়েলের মধ্যকার এই টানাপোড়েনের মূলে রয়েছে তাইওয়ানের উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া উ-এর সাম্প্রতিক গোপন তেল আবিব সফর। চীনা গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, এই সফরের মাধ্যমে তাইওয়ান উন্নত রাডার এবং অ্যারো-২ এর মতো ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি ক্রয়ের ব্যাপারে আলোচনা করেছে। গত নভেম্বরে তাইওয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিন চিয়া-লুং এক বিবৃতিতে প্রকাশ্যে স্বীকার করেন যে, ইসরায়েলের আয়রন ডোমের নকশার সাথে তাদের টি-ডোম ব্যবস্থার প্রযুক্তিগত মিল ও প্রতিরক্ষা মিথস্ক্রিয়া রয়েছে। এই মন্তব্যকে বেইজিং তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সরাসরি উস্কানি হিসেবে দেখছে।

গাজা যুদ্ধ পরবর্তী বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতে তাইওয়ানের ইসরায়েলঘেঁষা অবস্থান এই সম্পর্কের পালে আরও হাওয়া দিয়েছে। তাইওয়ান সরকার গাজা যুদ্ধে হামাস ও ইরানের কঠোর সমালোচনা করে ইসরায়েলের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে। বেইজিং মনে করে, ইসরায়েল সচেতনভাবেই চীনের সাথে তাদের সম্পর্কের অবনতিকে কাজে লাগিয়ে তাইওয়ানের সাথে সামরিক সখ্যতা বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে গত সেপ্টেম্বরে নেসেট সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত ইসরায়েলি প্রতিনিধি দলের তাইপেই সফর এবং পরবর্তী সময়ে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকগুলো চীনকে ক্ষুব্ধ করেছে।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, তাইওয়ানের টি-ডোম ব্যবস্থাটি মূলত আমেরিকার প্যাট্রিয়ট এবং দেশীয় স্কাই বো ক্ষেপণাস্ত্রের সমন্বয়ে গঠিত একটি বহুমুখী প্রতিরক্ষা স্তর। ইসরায়েলি অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ এই নেটওয়ার্কটি চীনের যে কোনো আকাশপথের হামলা নির্ভুলভাবে ঠেকানোর জন্য নকশা করা হয়েছে। যদিও ইসরায়েল আনুষ্ঠানিকভাবে এক চীন নীতি মেনে চলার কথা বলে, তবে তাদের এই পরোক্ষ সামরিক সহযোগিতা বেইজিংয়ের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে সরাসরি কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকলেও এই গোপন সামরিক আঁতাত এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে নতুন এক চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়েছে।