এখন সময় ডেস্ক • প্রকাশিত: ১০ নভেম্বার ২০২৫, ০৬:১১ এ এম • অনলাইন সংস্করণ

জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা তালিকা থেকে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আল–শারার নাম প্রত্যাহার

জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা তালিকা থেকে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আল–শারার নাম প্রত্যাহার

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ বৃহস্পতিবার সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল–শারাকে সন্ত্রাসবাদের নিষেধাজ্ঞা তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার পক্ষে ভোট দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সফরের কয়েক দিন আগে এই সিদ্ধান্তের ফলে ওয়াশিংটন সফরে তার আর কোনো ভিসা–সংক্রান্ত বাধা থাকছে না।

এক সময় আল–শারা ছিলেন আল–কায়েদা–ঘনিষ্ঠ এক ইসলামপন্থী বিদ্রোহী নেতা। মাত্র এক বছর আগেও তার মাথার ওপর যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা করেছিল এক কোটি ডলারের পুরস্কার। গত বছরের ডিসেম্বরে তার নেতৃত্বেই পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা সিরিয়ার একনায়কতন্ত্রের অবসান ঘটে। এরপর দ্রুতই তার সরকার বিদেশি নেতাদের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়।

নিষেধাজ্ঞা তালিকা সংশোধনের প্রস্তাবটি প্রস্তুত ও উত্থাপন করে যুক্তরাষ্ট্র। জাতিসংঘের এক মুখপাত্রের মতে, ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদে ১৪ দেশ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়, চীন ভোটদানে বিরত থাকে। একই সঙ্গে সিরিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আনাস খাত্তাবকেও তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে চলতি বছরের মে মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সিরিয়ার ওপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ঘোষণা দেন এবং সৌদি আরবে আল–শারার সঙ্গে প্রথমবারের মতো বৈঠক করেন। জুলাইয়ে ওয়াশিংটন আল–শারার নেতৃত্বাধীন হায়াত তাহরির আল–শাম সংগঠনের সন্ত্রাসী তকমাও প্রত্যাহার করে নেয়। আর ডিসেম্বরেই যুক্তরাষ্ট্র পুরস্কারের ঘোষণা বাতিল করে।

তবে জাতিসংঘের তালিকায় তার নাম থেকে যাওয়ায় নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে এবং অন্যান্য সফরে তাকে বিশেষ ছাড়পত্র নিতে হতো। এখন আর সে প্রয়োজন নেই। আগামী সোমবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আমন্ত্রণে তিনি হোয়াইট হাউসে সাক্ষাৎ করবেন—এটাই হবে কোনো সিরিয়ান প্রেসিডেন্টের যুক্তরাষ্ট্র সফরের প্রথম নজির। এই বৈঠকে ইসলামিক স্টেট (আইএস)–বিরোধী জোট গঠনের বিষয়ে আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে।

সাবেক মার্কিন ট্রেজারি কর্মকর্তা অ্যালেক্স জারডেন মনে করেন, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত সিরিয়ার পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টাকে আরও এগিয়ে নিতে পারে।

সিরিয়া টানা চার দশক ধরে নানা ধরনের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে রয়েছে। এসবের কিছু সম্পূর্ণভাবে তুলে নিতে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন। ট্রাম্প প্রশাসন ২০১৯ সালের ‘সিজার সিরিয়া সিভিলিয়ান প্রটেকশন অ্যাক্ট’ বাতিলের আহ্বান জানাচ্ছে, যা মূলত সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল–আসাদের যুদ্ধাপরাধের প্রতিক্রিয়ায় পাস করা হয়েছিল।

তবে এ বিষয়ে রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান ব্রায়ান মাস্টসহ কিছু মার্কিন আইনপ্রণেতা আপত্তি জানিয়েছেন। মাস্ট, যিনি প্রতিনিধি পরিষদের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির সভাপতি, সংবাদমাধ্যম দ্য হিল–কে বলেন, “সিরিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি যারা পর্যবেক্ষণ করছেন, তাদের কাছে আমার উদ্বেগ অজানা নয়।”

দেশটির রাজনৈতিক পরিবর্তন এখনও অস্থির। সাম্প্রদায়িক সহিংসতার আশঙ্কা রয়ে গেছে, পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট আল–শারার ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেকেই।

সিরিয়ান ইমারজেন্সি টাস্ক ফোর্সের নির্বাহী পরিচালক মুআজ মুস্তাফা বলেন, “এই ভোট সিরিয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক পদক্ষেপ। এটি এমন এক নতুন সিরিয়ার সম্ভাবনা তৈরি করছে, যা পশ্চিমা গণতন্ত্রগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে চায়।”