এখন সময় ডেস্ক • প্রকাশিত: ০২ ডিসেম্বার ২০২৫, ০৫:৩৬ এ এম • অনলাইন সংস্করণ

জরুরি সফটওয়্যার আপডেটে ১০০টিরও কম এয়ারবাস বিমান 'গ্রাউন্ডেড'

জরুরি সফটওয়্যার আপডেটে ১০০টিরও কম এয়ারবাস বিমান 'গ্রাউন্ডেড'

জরুরি ভিত্তিতে সফটওয়্যার আপডেটের প্রয়োজনে বিশ্বজুড়ে ১০০টিরও কম এয়ারবাস এ৩২০ সিরিজের বিমানকে সাময়িকভাবে উড্ডয়ন থেকে বিরত (গ্রাউন্ডেড) রাখা হয়েছে। ইউরোপের শীর্ষ বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাস সোমবার (১ ডিসেম্বর) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে, যা বিমান পরিবহন শিল্পে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি করেছে।

৬ হাজার বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সতর্কতা

গত সপ্তাহে এয়ারবাস একটি সতর্কতা জারি করে জানিয়েছিল যে তাদের ৬ হাজার বিমান প্রযুক্তিগতভাবে 'ক্ষতিগ্রস্ত' হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এই সতর্কতার পরই এই ১০০টিরও কম বিমানকে দ্রুত সফটওয়্যার পরিবর্তনের জন্য গ্রাউন্ডেড করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

এয়ারবাস এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে গ্রাহকদের আশ্বস্ত করে বলেছে, "আমরা আমাদের বিমান সংস্থা গ্রাহকদের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছি, যাতে দ্রুততম সময়ে এই ১০০টিরও কম অবশিষ্ট বিমানের সফটওয়্যার পরিবর্তন নিশ্চিত করা যায় এবং সেগুলোকে নিরাপদে পরিষেবায় ফিরিয়ে আনা যায়।"

তীব্র সৌর বিকিরণের ঝুঁকি চিহ্নিত

জানা গেছে, গত অক্টোবরে একটি ‘জেটব্লু’ ফ্লাইটে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ার পর এয়ারবাস এই প্রযুক্তিগত ঝুঁকির বিষয়টি মূল্যায়ণ করে। এই মূল্যায়নে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে তীব্র সৌর বিকিরণ (solar radiation) বা মহাজাগতিক রশ্মি বিমানটির ফ্লাইট নিয়ন্ত্রণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ডেটা (তথ্য) নষ্ট করে দিতে পারে, যা উড্ডয়নকালে মারাত্মক বিপত্তির কারণ হতে পারত। এই ঝুঁকির পরিপ্রেক্ষিতেই এয়ারবাস গত শুক্রবার তাদের ক্লায়েন্টদের সফটওয়্যার প্রতিস্থাপনের জন্য ‘তাৎক্ষণিক সতর্কতামূলক ব্যবস্থা’ নেওয়ার নির্দেশ দেয়।

কলম্বিয়ান বিমান সংস্থার বড় সিদ্ধান্ত

এয়ারবাসের এই ঘোষণার ফলে অনেক বিমান সংস্থাই প্রভাব অনুভব করছে। এর মধ্যে কলম্বিয়ান বিমান সংস্থা আভিয়ানকা জানিয়েছে যে তাদের ৭০ শতাংশ ফ্লাইট এই ত্রুটির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সংস্থাটি আরও উল্লেখ করেছে যে আগামী ১০ দিনের মধ্যে তাদের ফ্লাইটে উল্লেখযোগ্য বিঘ্ন সৃষ্টি হতে পারে। ফলস্বরূপ, পরিস্থিতি সামাল দিতে আভিয়ানকা ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত তাদের টিকিট বিক্রি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

প্রাথমিকভাবে উদ্বেগ ছিল যে শত শত বিমান দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ রাখতে হতে পারে। তবে এয়ারবাস গ্রাউন্ডেড বিমানের সংখ্যা ১০০-এর কম বলে নিশ্চিত করায় সেই আশঙ্কা কিছুটা কমেছে।