এখন সময় ডেস্ক • প্রকাশিত: ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:১১ এ এম • অনলাইন সংস্করণ

গ্রিনল্যান্ড সংকট ও ন্যাটোর ভবিষ্যৎ: এক অস্থির সময়ের সমীকরণ

গ্রিনল্যান্ড সংকট ও ন্যাটোর ভবিষ্যৎ: এক অস্থির সময়ের সমীকরণ

উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোট বা ন্যাটোর অন্দরে এখন এক চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কিছু পদক্ষেপ এবং বিশেষ করে ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড দখলের প্রচ্ছন্ন হুমকি এই জোটের অস্তিত্বকেই সংকটের মুখে ফেলে দিয়েছে। কয়েক দশক ধরে চলে আসা এই সামরিক জোটের স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন খোদ ইউরোপীয় ও কানাডীয় নেতারা।

ঘটনার সূত্রপাত হয় গ্রিনল্যান্ড নিয়ে প্রেসিডেন্টের পুনরায় আগ্রহ প্রকাশের মাধ্যমে। এর আগে ২০১৯ সালেও তিনি দ্বীপটি কেনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন, যা তখন খুব একটা সফল হয়নি। তবে এবার বিষয়টি কেবল আলোচনার টেবিলে সীমাবদ্ধ নেই; সামরিক শক্তি প্রয়োগের একটি প্রচ্ছন্ন আশঙ্কা এই আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। গ্রিনল্যান্ড কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চল, বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে মেরু অঞ্চলের বরফ গলে যাওয়ায় সেখানে নতুন বাণিজ্যিক ও সামরিক রুট তৈরি হচ্ছে। রাশিয়া এবং চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব রুখতে গ্রিনল্যান্ডকে মার্কিন নিয়ন্ত্রণে আনা জরুরি বলে মনে করছেন ট্রাম্প।

এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ডেনমার্ক এবং গ্রিনল্যান্ডের শীর্ষ কূটনীতিকরা বুধবার হোয়াইট হাউসে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন। ডেনিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোকে রাসমুসেন জানিয়েছেন, তারা সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান চান। তবে ন্যাটোর বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি সত্যিই কোনো মিত্র দেশ অন্য কোনো মিত্র দেশের ভূখণ্ডে আক্রমণ চালায়, তবে তা ন্যাটোর মূল ভিত্তি 'আর্টিকেল ৫' এর পরিপন্থী হবে। এই ধারা অনুযায়ী, কোনো এক সদস্য দেশের ওপর হামলা মানে পুরো জোটের ওপর হামলা। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেই যদি আক্রমণকারী হয়, তবে জোটের ভবিষ্যৎ কী হবে তা নিয়ে কোনো স্পষ্ট নজির নেই।

ন্যাটোর সাবেক সামরিক কর্মকর্তা রুব বাউয়ার অবশ্য মনে করেন, এটি আসলে একটি দরকষাকষির কৌশল। ট্রাম্প সম্ভবত চাচ্ছেন ইউরোপীয় দেশগুলো যেন আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তায় আরও বেশি অর্থ ব্যয় করে। অন্যদিকে মার্কিন কংগ্রেসেও এই নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ডেমোক্র্যাট সিনেটর টিম কেইন মনে করেন, কংগ্রেস এমন কোনো পদক্ষেপ রুখে দেবে। কিন্তু ফ্লোরিডার রিপাবলিকান প্রতিনিধি র‍্যান্ডি ফাইন আবার গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের পক্ষে আইন করার প্রস্তাব দিয়েছেন।

সব মিলিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধ এবং রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান হুমকির মাঝখানে ন্যাটোর এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল জোটটিকে এক নাজুক অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে। ইউরোপীয় নেতারা এখন ভাবছেন কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়াও নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়। ঐতিহাসিকভাবে ন্যাটো অনেক বড় বড় সংকট পার করে এলেও, এবারের গ্রিনল্যান্ড ইস্যু এবং সদস্য দেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নটি জোটের জন্য এক কঠিন পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।